কুষ্টিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের র্যালি আয়োজনকালে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে সবুজ (২৩) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ দলের নেতা-কর্মীরা শহরে শোকর্যালি শেষে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মজমপুর গেট এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল চত্বরে এসে জমায়েত হয়। এসময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে বিবদমান দুই গ্রুপের শত শত নেতা-কর্মী একে অপরের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় লোকজন এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দও শোনা যায়। সংঘর্ষে সবুজ গ্রুপের সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের কোপে মোমিজ গ্রুপের সমর্থক সবুজ মারাত্মক আহত হন। কুষ্টিয়া ২৫০ বেড হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। সংঘর্ষে আরো কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে সবুজ গ্রুপের সমর্থক বিদ্যুত্ ও আজমল হোসেনের অবস্থা আশংকাজন।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষের আশংকায় শহরে পুলিশের টহল জোরদার ও কয়েকটি মোড়ে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে জেলায় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুব উল আলম হানিফ সর্মথিত সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী গ্রুপ এবং বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি পৌর মেয়র আনোয়ার আলী ও সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আব্দুর রউফের গ্রুপের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুনীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে তিনি জানান।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মর্দনা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম (৩০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকাল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত রবিউল শিবগঞ্জ মর্দনা চকপাড়া গ্রামের নরুল ইসলামের (নজু মুন্নার) ছেলে।
শিবগঞ্জ থানার এসআই নূরে আলম জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে রবিউল তার এলাকার একটি আম বাগানে কাজ করছিলো। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে সেখানে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সক ডা. মজিবুর রহমান। প্রসঙ্গত মর্দনার বর্তমান পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালামের সাথে সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম পাশবানের বিরোধ চলে আসছে।
