জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ঢেলাপীর রেলক্রসিং-এ ট্রেনের ধাক্কায় খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান। এতে ভ্যানে থাকা ৮ পুলিশ সদস্যের মধ্যে চারজনই নিহত হয়েছেন। এছাড়া আশংকাজনক অবস্থায় সৈয়দপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেনসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
নিহতরা হলেন শামসুল আলম (৫৫), বাড়ি নওগাঁর সান্তাহারে হলেও পরিবার নিয়ে থাকতেন সৈয়দপুরের কাজীরহাটে, মাইদুল ইসলাম (২৬), বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে, শরিফুল ইসলাম (৩৬), বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ও ফারুক হোসেন (৩৯), বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। নিহতরা সবাই সৈয়দপুর থানার কনস্টেবল। এর মধ্যে শামসুল আলম ঘটনাস্থলে ও বাকিরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। একটি ডাকাত দলকে ধরতে পুলিশের দলটি বের হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢেলাপীর থেকে বড়ুয়া সড়কের রেলক্রসিং এ কোন গেট বা গেটম্যান নেই। ওই রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনটি পুলিশের পিকআপটিকে ধাক্কা মারে। এতে পিকআপটি প্রায় ১০০ ফুট দূরে গিয়ে একটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেখানে ঘটনাস্থলেই কনস্টেবল শামসুল আলম নিহত হন। খবর পেয়ে নীলফামারী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত ৭ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। তাদের উন্নত চিকিত্সার জন্য রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে কনস্টেবল মাইদুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম মারা যান। শনিবার সকালে মারা যান ফারুক হোসেন।
সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুস সহিদ জানান, শনিবার বাদজোহর জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে নিহত পুলিশ সদস্যদের জানাজার নামাজ শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অরক্ষিত রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় এবং রেল ক্রসিংয়ের আগে বাঁক থাকায় কিছু বুঝে উঠার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিবারে শোক:নিহত কনস্টেবল শামসুল আলমের সৈয়দপুরের কাজীরহাটের বাজীপাড়ার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের প্রধান ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে সব সদস্যই মুষড়ে পড়েছেন। ৩ কন্যা সন্তানের বাবা শামসুল আলম ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আরেক মেয়ে এইচএসসিতে পড়ছেন, ছোট্ট মেয়েটি ৩/৪ বছরের। সংসার কিভাবে চলবে, মেয়ের লেখাপড়ার কি হবে সে চিন্তায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন শামসুল আলমের স্ত্রী ।
শামসুল আলম সৈয়দপুর থানায় চাকরি সূত্রে এবং মেয়েদের লেখাপড়ার কারণে সৈয়দপুরের কাজীরহাটে ৩ শতক জায়গা কিনে বাড়িটি করেন। ধার-কর্জ করে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
