ইসলামি চরমপন্থিদের উত্থান ঠেকাতে সন্ত্রাস বিরোধী কঠোর আইন অনুমোদন করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি। নতুন এ আইন অনুযায়ী সন্ত্রাস-দমনে বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে। এতে কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী দল গঠন বা নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা পাবেন। এছাড়া ভুল বা ‘বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ পরিবেশন করলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে নতুন এ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।
রবিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি এ আইনের অনুমোদন দেন। সেনাপ্রধান থেকে শাসক বনে যাওয়া সিসির নতুন এ আইন অনুমোদনে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মিশরের সরকার সমর্থক সংবাদমাধ্যম আহরাম অনলাইন জানায়, গত জুন মাসে গাড়ি বোমা হামলায় একজন সরকারি কৌঁসুলি নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট সিসি সন্ত্রাস-দমনে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুমোদিত আইনে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিচার প্রক্রিয়া বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়নের শাস্তি হিসেবে।
সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, সিসির অনুমোদিত এ আইনে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হয়েছে। 'ভুল বা বিভ্রান্তিকর' সংবাদ পরিবেশন করলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে বিচারের আওতায় আনতে পারবে সরকার। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বার্তা প্রচার ও সহিংসতার উস্কানিদাতার অভিযোগ তুলে অভিযুক্তকে ৫-৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।
এছাড়া, সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সরকারি বিবরণের সঙ্গে সংবাদের অসঙ্গতি থাকলে বিশাল অংকের অর্থদণ্ড করা হবে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গণবিক্ষোভের মুখে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে হটিয়ে ক্ষমতা নেয়া সাবেক সেনাপ্রধান সিসি এ আইনকে ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
