বান্ধবীকে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে সব কেড়ে নিলো দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৫, ০০:২৭
 
বান্ধবীকে নিয়ে টিএসসিতে গিয়েছিলেন লিমন। টিএসসির একটি আবৃত্তি সংগঠন ও নাট্যদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। কাজ শেষে সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল তার বান্ধবী। চারুকলার ইন্সটিটিউটের উল্টো দিকের ছবির হাটের ভেতর দিয়ে সোজা রমনার দিকে যাচ্ছিলেন তারা।
 
কিন্তু শিখা চিরন্তন পার হওয়ার পর এক দল যুবক তাদের ঘিরে ধরে। দু’জনকে আলাদা করে ফেলে মুহূর্তেই। তারপর মারধর করে। স্বেচ্ছায় সব কিছু দিয়ে দিতে বলে। না দিলে বান্ধবীকে ধর্ষণের ভয় দেখায়। বাধ্য হয়ে লিমন হাতের মোবাইল, পকেটে থাকা টাকা বের করে দেন। বান্ধবীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন আর কানের দুলও খুলে নেয়া তারা।
 
দুর্বৃত্তরা শেষে লিমনের ডেবিট কার্ডও নিয়ে নেয়। জেনে নেয় পিন কোডও। তারপর দুর্বৃত্তদের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে টিএসসির পাশের এটিএম বুথে যায়। সেখান থেকে কার্ড দিয়ে টাকা তোলার পর ছেড়ে দেয়া হয় তাকে।
 
সোমবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। লিমন শাহবাগ থানায় সব খুলে বলে। কিন্তু পুলিশ এ ঘটনায় মামলা নেয়ার পরিবর্তে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং ৮৯৭) নিয়েছে। পুলিশ বলেছে, যদি দুর্বৃত্তরা ধরা পড়ে তাহলেই কেবল মামলা নেয়া হবে।
 
লিমন জানান, তার পুরো নাম আনছার আলী লিমন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। পাশাপাশি নাট্যবেদ নামে একটি থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এছাড়া টিএসসির কথা আবৃত্তি সংসদেরও সদস্য তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি বান্ধবীকে নিয়ে টিএসসিতে যান। সেখানে সংগঠনের কিছু কাজকর্ম শেষ করে হাটতে হাটতে টিএসসির দিকে আসেন।
 
সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালায় যাওয়ার জন্য চারুকলার বিপরীত দিকের ছবির হাট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রাস্তা ধরে হাটতে থাকেন। শিখা চিরন্তন পার হয়ে সোজা রমনার দিকে বেরোচ্ছিলেন তারা। হঠাৎ পাঁচটি ছেলে তাদের ঘিরে ধরে। তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে দুজনকে টেনে হিঁচড়ে আলাদা করে ফেলে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই পাঁচ যুবকের সঙ্গে যোগ দেয় আরো কয়েকজন। তাদের ধারালো অস্ত্র ছিল। কয়েকজন যুবক তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করতে থাকে। এরপর হাতে থাকা মোবাইল নিয়ে নেয়। পকেটে থাকা নগদ টাকা নেয়। দুর্বৃত্তরা তার বান্ধবীর শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে। বান্ধবীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল খুলে নেয় মুহূর্তের মধ্যে।
 
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা লিমনের পকেটে থাকা ডেবিট কার্ড নেয়। এসময় লিমন কার্ড দিলেও পিন কোড দিতে রাজী হননি। পরে দুর্বৃত্তরা তার বান্ধবীকে গণধর্ষণের ভয় দেখায়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পিন কোড দেন। দুর্বৃত্তরা তাদের আটকিয়ে রেখে একজনকে টিএসসির এটিএম বুথে পাঠায়।
 
মোটরসাইকেলে চড়ে এক দুর্বৃত্ত বুথে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরে মোবাইলে এই খবর সহযোগীদের জানানোর পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। লিমন জানান, ঘটনার পরপরই তিনি শাহবাগ থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। কিন্তু থানা পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি। লিমন মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করতে বলে।
 
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে। বাইরে থেকে কেউ উদ্যানে গেলেই তাদের আটকিয়ে টাকা-পয়সা কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের এরকম একাধিক চক্র সন্ধ্যা হলেই উদ্যানের ভেতরে ঘুরে বেড়ায়। রাত ১১টা পর্যন্ত এই কাজ করে তারা।