মানি লন্ডারিং অপরাধের তদন্ত ক্ষমতা যৌথভাবে একাধিক সরকারি সংস্থার ওপর ন্যস্ত করার পাশাপাশি এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। এরকম বিধান রেখে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইন সংশোধন করার খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান আইনে মানি লন্ডারিং আইনের অপরাধের তদন্ত শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করতে পারে। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে দুদকের পাশাপাশি পুলিশ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দায়িত্ব পাবে। যুগপত্ তদন্তের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। মন্ত্রিসভা একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধনীতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এ সংশোধনীর ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ইত্যাদি বিষয়ের অপরাধ দুদকের পরিবর্তে পুলিশ তদন্ত করবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন-২০১৫’ এবং ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৫’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মানি লন্ডারিং অপরাধের তদন্তের পরিধিও বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে:প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, আমলা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনে নজরদারি বাড়ানো যাবে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ ক্রোক করা ও দেশের মধ্যে যেসব বিদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছে, তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো। সেই সঙ্গে মুদ্রাপাচারের ক্ষেত্রে কেবল ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের ভার দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে রেখে দুদক আইনও সংশোধন করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া বলেন, “মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১২ সালের মুদ্রাপাচার আইনে ৪ থেকে ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনেও তা একই থাকছে। পরিবর্তন আনা হচ্ছে অর্থদণ্ডের ক্ষেত্রে।
বিদ্যমান আইনে পাচার হওয়া অর্থের কমপক্ষে দ্বিগুণ অথবা ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে- সেই পরিমাণ জরিমানার কথা বলা আছে। এই অংক বাড়িয়ে ১০ লাখের জায়গায় ২০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটলে তা তদন্তের দায়িত্ব দুদকের হাতেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন অনুযায়ী পুলিশ, কাস্টমস, এনবিআর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তদন্ত করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুর্নীতি দমন আইনের তফসিলে এখন বলা আছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর অধীন অপরাধসমূহ। এখানে সংশোধন করে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর অধীন ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধসমূহ।”
মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া বলেন, বিদ্যমান আইনে তদন্তকারী দলের সংজ্ঞা ছিল না। এখন সেটা করা হয়েছে। কারণ মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টা খুব জটিল। মানি লন্ডারিংয়ের অর্থে অন্য কোন অপরাধ যেমন, খুন হয়েছে ইত্যাদি, সেক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত দলের প্রয়োজন থাকতে পারে। যার মধ্যে হয়তো পুলিশের লোক থাকবে, এনবিআরের লোক থাকবে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোক থাকবে। কাজেই যেখানে প্রয়োজন যৌথ তদন্ত দল করা যাবে। সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে এ আইনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, তাদের ‘আরও ক্ষমতা’ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
