শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আবারো সরব নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। হিন্দুত্বের প্রচারকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অমর্ত্য সেন আগেও বলেছিলেন। এ বার আরো তীব্র আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারকে। গত ফেব্রুয়ারিতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ থেকে সরে যেতে চেয়ে এক চিঠিতে অমর্ত্য সেন লিখেছিলেন, আচার্য হিসেবে সরকার যে আমাকে চায় না, আমার পক্ষে তেমনটা না ভাবাই কঠিন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, দেশ জুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে। নালন্দাও তার বাইরে নয়। এবার নিজের সাম্প্রতিক প্রবন্ধ সংকলন ‘দ্য কান্ট্রি অব ফার্স্ট বয়েজ’-এ তিনি লিখেছেন, বর্তমানে জমানায় শিক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপ অতি সাধারণ ঘটনা। তা প্রায়ই চূড়ান্ত রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।
তাঁর কথায়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে যাঁদের বেছে নেয়া হচ্ছে, তাঁরা হিন্দুত্বের প্রচারেই বেশি মনোযোগী।
পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান পদে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ গজেন্দ্র চৌহানকে বসানো নিয়ে অচলাবস্থা চলছে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। অমর্ত্য সেন অবশ্য তুলেছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ (আইসিএইচআর) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর শীর্ষ পদে থাকাদের প্রসঙ্গ। আইসিএইচআর-এর নতুন প্রধান ওয়াই সুদর্শন রাও সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিক গবেষণা দিয়ে তাঁকে হয়তো কেউ চিনবে না। তবে তাঁর হিন্দুত্ব-বিষয়ক মন্তব্যগুলো সুপরিচিত। একইভাবে আইসিসিআর-এর নতুন প্রধান লোকেশ চন্দ্র যে মোদীকে ‘ভগবানের অবতার’ বলেছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অমর্ত্য সেন।
তাঁর প্রবন্ধে স্থান পেয়েছে নালন্দার কথাও। অমর্ত্য সেন আবারো আচার্য পদে বসতে না চাওয়ায় গত ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার সিঙ্গাপুরের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জর্জ ইয়োকে নালন্দার নতুন আচার্য পদে মনোনীত করে। অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, ইয়ো যেন নালন্দাকে উত্কর্ষের পথে নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা পান। আইসিএইচআর এবং আইসিসিআর-এর মতো বিভেদের পথে নালন্দার যেন অধঃপতন না হয়।
নোবেল জয়ী এই অর্থনীতিবিদ অকপটে লিখেছেন, তাঁকে আচার্য পদে রাখা নিয়ে সরকার ও নালন্দার পরিচালনা পরিষদের টানাপোড়েন নালন্দার পুনর্গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এই কথাটা বুঝতে পেরেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
