অভিজিত্-অনন্ত হত্যা: ৩ পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৫, ২২:০৫
 
ব্লগার অভিজিত রায় ওঅনন্ত বিজয় দাশ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। তারা হলেন—তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী ও আমিনুল মল্লিক। র্যাব-৩ একটি টিম সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
 
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান  জানিয়েছেন, তিনজনই নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারউল্লা বাংলা টিমের সদস্য। এদের মধ্যে তৌহিদ আনার উল্লাহ বাংলা টিমের অর্থের যোগদান দাতা ,আর অপর দু’জন সক্রিয় সদস্য। তারাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী  মুক্তমনা ব্লগের  প্রতিষ্ঠাতা লেখক অভিজিত রায় এবং সিলেটের ব্লগার লেখক ও তরুণ ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের মূল্য পরিকল্পনাকারী।
 
মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতদেরকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে  বলে জানানো হয়।
 
কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের মাঠে ব্লগার অভিজিত্ রায়কে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল  ৫ জন। আর কারাগার থেকে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা দেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানি।
 
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান,  কিলিং মিশনে অংশ নেয়া ৫ জন ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের মাঠে মিলিত হয়। তারা হচ্ছেন—সাদেক আলী, রমজান (সিয়াম), নাঈম, জুলহাস বিশ্বাস ও জাফরান আল হাসান। এদের মধ্যে সাদেক আলীকে সোমবার রাতে আটক করেছে র‍্যাব। সাদেক আলী  রাহমানির বই প্রকাশনায় কাজ করেন, পাশাপাশি রাহমানির  স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
 
গ্রেফতারকৃত তৌহিদুর রহমান এক সময় বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি একজন আইটি বিশেসজ্ঞ।  ১৯৯০ সালে ব্রিটেনে গিয়ে দেশে ফেরেন প্রায় একুশ বছর পর। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার দেশে এসে আনসারুল্লাহকে অর্থ সরবরাহ করছেন তিনি। আর আমিনুল মল্লিক আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের দালাল। তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের ভুল তথ্য দিয়ে অবৈধ পাসপোর্ট তৈরি করে দিতেন।
 
মুফতি মাহমুদ খান জানান, অভিজিেক হত্যার আধাঘণ্টা পূর্বেই রমজান, নাঈমসহ অন্যান্যরা বই মেলায় অবস্থান নেয় এবং তাকে অনুসরণ করে টিএসসি এলাকায় আসার পর তাকে হত্যা করে। রমজান পেশায় কালোজিরা ও মধু বিক্রেতা। সে আনসারুল্লায় যোগদানের জন্য অন্যদের দাওয়াত দিত। জুলহাস ও জাফরান অভিজিতকে হত্যার পর দায় স্বীকার করে ইমেইল ও পোস্ট দিত।
 
৫ জনের এই গ্রুপটিই একইভাবে সিলেটে অনন্ত বিজয় দাস হত্যায় অংশগ্রহণ করে বলে জানায় র‍্যাব। আসামিদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, ব্লগারদের হত্যার জন্য রাহমানি জেলখানা থেকে তার ছোট ভাই বাশারকে নির্দেশনা দিত। বাশার আনসারুল্লাহর সদস্যদের দিয়ে কাজ করাতো।
 
তিনি জানান, ব্লগার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাশার, রমজান, নাঈম জুলহাস ও জাফরান বর্তমানে পলাতক রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
 
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুক্তমনা ব্লগের লেখক অভিজিত্ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন। হত্যায় জড়িত অভিযোগে ২ মার্চ যাত্রাবাড়ী থেকে শফিউর রহমান ওরফে ফারাবী নামের একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করে র‍্যাব। ফারাবীকে দুই দফা রিমান্ডে নেয়া হয়।
 
১২ মে সকালে সিলেট নগরের সুবিদ বাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তা মোড়ে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। ওই দিন রাতে বিমানবন্দর থানায় অনন্তর বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি তদন্তে নেমে ইদ্রিস আলী নামের এক স্থানীয় ফটোসাংবাদিককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়।