ঢাকায় বর্তমানে ২০৯টি বাসরুট রয়েছে। এত বেশি রুট দরকার নেই। এক শ্রেণির রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর কারণে অযথা এবং অপ্রয়োজনীয় রুট চালু করা হচ্ছে। কুড়িল ও কাকলি ফ্লাইওভার চালুর পর ওই এলাকায় ৬০টি নতুন রুট চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত রুট যানজট তৈরি করছে। সুষ্ঠু যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরে ৬০টিতে নামিয়ে আনতে হবে। সড়কে যানজট নিরসনে নতুন গাড়ি ক্রয়ে নয়, ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়কের প্রধান মোড়গুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারব্রিজ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ও গণপরিবহণের অভ্যন্তরে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান কার্যালয়ে ‘বাস সেক্টরে শৃঙ্খলা: সবার করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের (সিএএসই) আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দৈনিক ইত্তেফাক ও বেসরকারি সংস্থা এক্সপ্রেশনস গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করে।
বক্তারা বলেন, রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কের সিংহভাগ জায়গায় প্রাইভেটকার রাখা হয়। এতে করে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই সড়ক নেটওয়ার্কে যানবাহনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। অপরিকল্পিত বিপনি বিতানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কিংবা বন্ধ করতে হবে।
বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী,
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক, বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মোসলেহউদ্দিন আহমেদ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, স্থপতি ইকবাল হাবিব, বাংলাদেশ বাস ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফারুক তালুকদার সোহেল, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএএসইর প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুর রহমান।
