শিক্ষা ক্যাডারে অনিয়মে শিক্ষকদের অসন্তোষ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৫, ২১:৪৪
 
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা লংঘন হচ্ছে। নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় পরীক্ষা, চাকরি স্থায়ীকরণ পরীক্ষা ও সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এসব পদে নিয়োগ হচ্ছে।
 
পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মসহ নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে। কিন্তু এ বিষয় সমাধানসহ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোন দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের (শিক্ষক) মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
 
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন—নিয়োগ, এমপিও জ্যেষ্ঠতা-পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল, অ্যাডভান্সড ইনক্রিমেন্ট, কল্যান তহবিল, অবসর ভাতা, পিআরএল, পেনশনসহ সকল ক্ষেত্রেই চলছে নানা অনিয়ম।
 
কয়েকমাস পূর্বে সরকারি কলেহের পদোন্নতির জন্য ডিপিসি  ‘ডিপার্টমেন্ট অফ সিলেকশন প্রমোশণ কমিটির’  সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
জানা যায়, প্রভাষক থেকে সহকারি অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জ্যেষ্ঠতা বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়ে ডিপিসি সভা করার সুযোগ হয়নি।
 
২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শিক্ষামন্ত্র ও শিক্ষাসচিব মমতাজুল ইসলাম ও একজন যুগ্মসচিব তাদের দলীয় ও স্বজনদের চাকরি স্থায়ী করণ ও পদোন্নতির শর্তাদি পুরণ ছাড়া যে ধারা চালু করেন, তারই ধারায় বর্তমানে কাজ চলছে। সরকারি কর্মর্তাদের চাকরি সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিধি বিধান বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১, বিসিএস জ্যেষ্ঠতা বিধিমাল  এবং বিসিএস পদোন্নতি বিধিমালা ১৯৮৬ মানা হচ্ছে না।
 
শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কিন্তু এই পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের মতো এখনও নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক সিনিয়র ক্যাডারদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের এই পদে বসানো হচ্ছে। ফলে এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়।
 
পদায়নের ক্ষেত্রে হচ্ছে নানা অনিয়ম। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকছে হাতেগোনা শতাধিক কর্মকর্তা। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে বদলি হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর। আবার শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বদলি হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ইডেন বা ঢাকা কলেজ থেকে বদলি হয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। আবার সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে বদলি হয়ে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। এভাবে ঢাকার এক কলেজ থেকে বদলি হয়ে অন্য কলেজে আনা হচ্ছে। নিজ পছন্দের লোকদের এভাবে যুগের বেশি সময় ধরে ঢাকায় রাখা হচ্ছে। আবার দীর্ঘদিন ঢাকা আসার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়না । গ্রামের কলেজগুলোতেই শিক্ষাকতা করে পুরোটা বয়সই পার করতে হচ্ছে। এভাবে নানা অনিয়ম চলছে শিক্ষা ক্যাডারে।