ওয়ারীতে গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতার মৃত্যু: আটক ২

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৫, ২২:২০
 
রাজধানীর ওয়ারীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত ৩১ ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান (৩০) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার পর পুলিশ আব্দুল মান্নানের ব্যবসায়িক অংশীদার রনিসহ দুইজনকে আটক করেছে।
ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সভাস কুমার পাল বলেন, আব্দুল মান্নান ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হলেও তিনি র্যাব ও পুলিশের সোর্স হিসাবে কাজ করতেন। মিটফোর্ড এলাকায় ১৫/১, জননী মার্কেটে মেসার্স আফরিন ড্রাগ হাউস নামে ওষুধের পাইকারি বিক্রির দোকান রয়েছে। আব্দুল মান্নান নিরক্ষর ব্যক্তি ছিলেন বলে দোকানের আর্থিক লেনদেন দেখাশুনা করতেন তার ব্যবসায়ীক অংশীদার রনি। আব্দুল মান্নান একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি যুবলীগে যোগদেন। কামরাঙীরচর এলাকায় এক কাঠা জমির ওপর তিন তলা বাড়ি নির্মাণাধীন। ঐ বাড়ি নির্মাণ নিয়েও একটি পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব রয়েছে। 
 
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক আভ্যন্তরীন কোন্দলের চেয়ে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এ হত্যার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আব্দুল মান্নান ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইয়াবা বিক্রির টাকার হিসাব রাখতেন তার সহকর্মী রনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
 
অন্যদিকে, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী নুসরাত জাহান সাথীর বক্তব্যে অনেক গরমিল পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হাটখোলা রোডের ২১/১ নম্বর নকশি রূপায়ন টাওয়ারের তৃতীয় তলায় স্ত্রী নুসরাত জাহান সাথীসহ দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে মিটফোর্ডে ওষুধের দোকান থেকে সহকর্মী আলামিনের সঙ্গে রিকশায় করে বাসার সামনে আসেন। রিকশা থেকে নামার পরপরই একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক মান্নানকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এ দৃশ্য নুসরাত জাহান সাথী তাদের ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে দেখেছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে দেখতে পায় যে, আব্দুল মান্নানের ফ্ল্যাট থেকে ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেখার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে এই হত্যার সঙ্গে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিহত মান্নানের মাথা ও পেটে গুলি লেগেছে।
 
ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের দফতর সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল নেই। আব্দুল মান্নানকে দলের কেউ হত্যা করেনি। পুলিশ তদন্ত করলেই হত্যার কারণ বেরিয়ে আসবে।
 
এর আগে গত ১৩ আগষ্ট রাতে রাজধানীর বাড্ডায় মহানগর (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা, তার সঙ্গে থাকা ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মোল্লা এবং উত্তর বাড্ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ আহমেদ মানিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঐ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই বাড্ডার ঐ ৩ খুনের ঘটনা ঘটে।