শতকোটি টাকা ব্যয়ের পরও গুলশান-বনানী লেকের দূষণ-দখল অব্যাহত রয়েছে। মহানগরী ঢাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য লেকসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) মহানগরীর লেকসমূহের পানির গুণাগুণ নিয়মিত পরীক্ষার সাথে সাথে লেকের দখল ও ভরাট পর্যবেক্ষণ করে আসছে। পরীক্ষায় দেখা যায় গুলশান-বনানী লেকের অধিকাংশ স্থানের পানির নমুনায় দ্রবীভূত অক্সিজেন শূন্যের কোটায় এবং দখল-ভরাটে আয়তন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
গতকাল বুধবার পবা কার্যালয়ে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক দূষণের প্রাপ্ত ফলাফল ও দখল-ভরাটের বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধের উপর বক্তব্য রাখেন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ডা. মোজাহেরুল হক, পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সহ-সম্পাদক মো. সেলিম, আবুল হাসনাত প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দখল ও ভরাটের ফলে লেক দুটির আয়তন কমে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে পয়ঃবর্জ্য, গৃহস্থালী বর্জ্য, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য এবং শিল্প বর্জ্য ফেলার ফলে লেক দুটি অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গুলশান লেকের পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ও পিএইচ নিয়মিতভাবে পরীক্ষা এবং দখল ও ভরাট পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। পবার পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায় যে, বনানী, গুলশান, বারিধারা, বাড্ডা, কালাচানপুর এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, পুরাতন বিল্ডিংয়ের ভাঙ্গা অংশ, বিল্ডিং মেরামত ও পুনঃসংস্কার থেকে সৃষ্ট বর্জ্য লেকে ফেলে ভরাট করা হচ্ছে এবং এখানে সেখানে গাছ লাগিয়ে, নার্সারী গড়ে, চায়ের দোকান দিয়ে, বাঁশের ঘর ও আধা পাকা ঘর তুলে দখল করা হচ্ছে। কড়াইল বস্তি এলাকায় ভরাট ও দখলের মাত্রা সবচেয়ে বেশী এবং অনেক কাঁচা লেট্রিন রয়েছে ও বস্তি এলাকার পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে ফেলা হচ্ছে। বনানী, গুলশান, বারিধারা, বাড্ডা, কালাচানপুর এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের কোন ব্যবস্থা নেই। পয়ঃবর্জ্য সেপ্টিক ট্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধনের নিয়ম থাকলেও এসব এলাকার বাড়ির মালিকগণ তাদের পয়ঃবর্জ্য লেকে ফেলছেন। পর্যবেক্ষণকালে লেকে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য এবং মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ যথাযথভাবে প্রয়োগ করার সুপারিশ জানানো হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।
