হবিগঞ্জে পরিত্যক্ত খোয়াই নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণ, শায়েস্তানগর টাউন মডেল প্রাইমারি স্কুলের সামনের পুকুরে ও আধুনিক স্টেডিয়ামের প্রবেশ মুখে বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ শহরকে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিমতলায় একাধিক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে ও তোফাজ্জল সোহেলের পরিচালনায় এতে বক্তৃতা করেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কলি, কবি তাহমিনা বেগম গিনি, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি ডা. এসএস আল-আমিন সুমন, ক্রীড়া সংগঠক হুমায়ূন খান, কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিকুর রহমান আশিক, প্রবাসী নেতা আব্দুল বাছিত চৌধুরী, খোয়াই থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন খাঁ, আবিদুর রহমান রাকিব, আমিনুল ইসলাম ও নিহাদ ইশতিয়াক প্রমুখ।
পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. সফিউল আলম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
বক্তারা বলেন, শহরের বুক চিরে বয়ে চলা পুরাতন খোয়াই নদী দখল-দূষণে মাত্রা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে পুরাতন খোয়াই নদী হবিগঞ্জ শহরের সর্ববৃহৎ ডাস্টবিনে রূপ নিয়েছে। নদীর আশপাশের বাসাবাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন, ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ ময়লা আবর্জনা ফেলার মধ্য দিয়ে দখলি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। পুরনো বাসস্ট্যান্ডের নিকটবর্তী ও টাউন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পুকুরটি বর্জ্য ফেলে পরিকল্পিতভাবে ভরাট করা হচ্ছে। একইভাবে ভরাট করা হচ্ছে মাস্টার কোয়ার্টার পাড়ার ভেতরের বামদিকের পুকুর ও বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের গেটের পাশের পুকুরটি। নতুন আধুনিক স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথের উল্টোদিকে ও নিউফিল্ডের প্রান্তবর্তী খালটিও ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ স্থানটিকে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে রূপান্তরিত করার ফলে চরম দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে মানুষকে চলাচল করতে হয়। এ অবস্থায় নদী, খাল ও পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার মূল কারণটি হচ্ছে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
