কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুল। তার ১০৮ রানে ভর করে দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩১৯ রান করেছে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ভারত। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরুটা ভালো হয়নি কোহলিদের। ১২ রানের মধ্যেই ওপেনার মুরালি বিজয় ও তিন নম্বরে নামা আজিঙ্কা রাহানের উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। বিজয় শূন্য ও রাহানে ৪ রান করে স্বাগতিক পেসার ধাম্মিকা প্রসাদের শিকার হন।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোয় চিন্তা নিয়ে ক্রিজে যোগ দেন ভারত দলপতি বিরাট কোহলি। ঐ সময় সঙ্গী হিসেবে কোহলি সাথে পান আরেক ওপেনার রাহুলকে। শুরুর ধাক্কাটা কাটিয়ে ওঠার টার্গেটই থাকার কথা ছিলো কোহলি ও রাহুলের। কিন্তু প্রথম সেশন শেষে এই দু’জনের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে ‘চাপ’ বলতে কিছু ছিলো না তাদের উপর। কারণ সাড়ে তিনের উপর রান রেট বজায় রেখে প্রথম সেশন শেষ করেন কোহলি ও রাহুল। ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ৯৭ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় সফরকারীরা।
লাঞ্চের পরও রান রেট ধরে রেখেই এগোচ্ছিলেন কোহলি ও রাহুল। তাতে ওভার প্রতি রান রেট চার ছুই-ছুই। আর ঐ সেশনে দু’জনই স্পর্শ করেন হাফ-সেঞ্চুরি। আর ঐ দু’জনের দারুণ জুটিতে ভারতের স্কোর বড় হওয়ার পথেই ছিলো। কিন্তু দলীয় ১৭৬ রানে কোহলিকে স্পিনে ফােঁদ ফেলেন আগের টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট নেয় বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া ইনিংসে কোহলি আউট হন ৭৮ রানে। তার ১০৭ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার মার ছিলো। সেই সাথে তৃতীয় উইকেটে ২৩৪ বলে গড়ে উঠা ১৬৪ রানের জুটিটিও ভাঙ্গে। শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। আর এই মাঠে তৃতীয় উইকেটে জুটির ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে। সেরা জুটিটি হলো নিউজিল্যান্ডের রস টেইলর ও কেন উইলিয়ামসনের। ২০১২ সালে ২৬২ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা।
কোহলির বিদায়ের পর রাহুলের সাথে জুটি বােঁধন রোহিত শর্মা। চা-বিরতির পরই টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলেন নেন রাহুল। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম সেঞ্চুরির করেছিলেন তিনি।
প্রথম টেস্ট নাটকীয়ভাবে ৬৩ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ভারত প্রথম ইনিংস: ৩১৯/৬, ৮৭.২ ওভার (লোকেশ রাহুল ১০৮, রোহিত শর্মা ৭৯, বিরাট কোহলি ৭৮, প্রসাদ ২/৭২)।
