নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত মেয়র যশোরে আটক

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৫, ১৩:৪৯
নড়াইল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোস্তফা কামাল মোস্তকে যশোরের চাঁচড়া থেকে মদসহ আটক করেছে পুলিশ। 
 
রবিবার রাত ১০টার দিকে তাকে আটকের পর নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গভীর রাতে সাংবাদিকদের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করে পুলিশ। আটক মোস্তফা কামাল বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের পদটি দখলে নেন।
 
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোস্তফা কামাল ছিলেন নড়াইল জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হবার সুবাদে এবং মেয়র বিএনপি নেতা হওয়ায় মোস্ত প্যানেল মেয়র মনোনীত হন। সরকারের মেয়াদ পূর্তির রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই তিনি নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির হাতে ফুল তুলে দিয়ে আওযামী লীগে যোগ দেন। এর কিছুদিনের মধ্যে এ বছরের ৮ জানুয়ারি নড়াইল পৌর মেয়র জুলফিকার আলী মন্ডল নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হলে মোস্তফা কামাল ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন। এরপর থেকে তিনি মাঝেমধ্যে নড়াইল পৌরসভার গাড়ি নিয়ে বেনাপোলে যেতেন এবং মদ নিয়ে আসতেন বলে নড়াইলে ব্যাপকভাবে গুঞ্জন রয়েছে।
 
রবিবার রাতে এভাবেই বেনাপোল থেকে মদ নিয়ে ফেরার পথে শহরের প্রবেশমুখ চাঁচড়ায় পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে পড়েন। তিনি বেশ কয়েকবার নিজেকে মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেন। কিন্তু পুলিশ তার পরিচয়কে উপেক্ষা করে বেনাপোল থেকে একটি জিপে অস্ত্র এবং ফেনসিডিল বহন হচ্ছে- এমন সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি গাড়িতে তল্লাশি চালায়। 
 
ভারপ্রাপ্ত মেয়রের গাড়ি থেকে দুই বোতল মদ এবং একটি টু টু বোরের রাইফেল উদ্ধারের পর গাড়িসহ তাকে প্রথমে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি এবং পরে গভীর রাতে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় তাকে যেন আটক দেখানো না হয়, সেজন্য নানা তদবির আসতে থাকে। রবিবার রাত পৌনে ১২টায়ও এ প্রতিবেদকের কাছে আটকের বিষয়টি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আককাস আলী শিকদার অস্বীকার করেন। 
 
সোমবার বেলা ১২টায় তিনি ইত্তেফাককে জানান, ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। রাইফেলটি লাইসেন্স করা বলে শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকায় সেটি পুলিশের কাছে জমা থাকবে। তিনি জামিন পাবার পর নিয়মানুযায়ী অস্ত্র ফেরত দেয়া হবে।