রাজাপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিচার

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৫, ১৫:১০
রাজাপুরের বদনিকাঠিতে এক শিশুকে ধর্ষনচেষ্টার অভিযোগে সালিশে হাসিব সিকদার (১২)কে ১১০জুতাপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হাসিব অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ১৯আগষ্ট তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১৮ আগষ্ট রাতে বদনিকাঠি কিশোর হাসিব সিকদারের বিরুদ্ধে  এক গৃহবধূ তার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলেন। পরের দিন রাতে স্থানীয় মঠবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম তারেকের নেতৃত্বে ইয়াকুব আলী খান, রশিদ সিকদার, মুনসুর সিকদার ও শিশু দাদা ইসমাইল সিকদার এ ঘটনার সালিশ বৈঠকে বসেন। সালিশে তারেক মেম্বর ওই হাসিবকে ১১০ জুতাপেটা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। 
বুধবার রাতে ওই গৃহবধূর ঘরে বসেই তারেক মেম্বর স্থানীয় কবির সিকদারকে তার পায়ের জুতা খুলে কিশোরকে পেটানোর নির্দেশ দেন। কবির সিকদার এ সময় ১০০জুতাপেটা করলে ওই কিশোর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার মুখ থেকে লালা বের হয়ে যায়। এ অবস্থায়ই তাকে আরো ১০জুতাপেটা করা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় কোলে করে হাসিবকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। তখন তার পরিবার জরিমানার ১০হাজারের পরিবর্তে আট হাজার টাকা নগদ দিলেও গৃহবধূ তা নেননি। 
 
হাসিবের চাচা আ. আজিজ সিকদার বলেন, ‘একটা মিথ্যা অভিযোগে আমার ভাইর ছেলেকে জুতাপেটা করে বিচার করা হয়। কিন্তু এর পরেও আবার তাকে একই অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হয়। এটা হাসিবের ওপর অবিচারের শামিল। আমি এ ঘটনার তদন্ত করে সঠিক বিচার চাই।’
 
এ ব্যাপারে তরিকুল ইসলাম তারেক মেম্বর বলেন, ‘আমি ওই ঘটনায় জুতাপেটা করে তার বিচার করেছি। এরপরেও শিশুর মা থানায় অভিযোগ করেছেন। তাই এরপর আমরা আর কোনো পদক্ষেপ নেইনি।’
 
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিচার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’