বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় গোটা জাতিকে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ১৩ নং ওয়ার্ড, বায়তুল মোকাররম ইউনিট আওয়মী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট সংলগ্ন ওভার ব্রীজের দক্ষিণ কর্নারের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডকে পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটেছে এ কথা সত্য এবং সেসব ঘটনার তদন্ত স্বাপেক্ষে বিচারও হয়েছে। কিন্তু একটি দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করার ঘটনা পৃথিবীর কোন দেশেই ঘটেনি।’
তিনি বলেন, ইনডেমনিটি অ্যাক্ট জারির কারনে ২৩ বছর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা যায়নি, এজন্য তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ায় জাতির জনকের খুনীদের বিচার হয়েছে। কিন্তু এ হত্যার পেছনে যে রাজনীতি ছিল-সেই রাজনৈতিক শক্তির বিচার এখনো করা হয়নি।
‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে’ উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি, কিন্তু তার কন্যা ও বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য আমাদের সকলকে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
১৩ নং ওয়ার্ড, বায়তুল মোকাররম ইউনিট আওয়মী লীগের সভাপতি মো. সোহরাব উদ্দিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য ও বায়তুল মোকাররম জুয়েলারী সমিতির সভাপতি কাজি সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক দিলীপ কুমার রায় প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক শোষনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আজীবন রাজনীতি করেছেন। শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে বলে তারা মনে করেন। অলোচনা শেষে রাশেদ খান দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন।
