নেত্রকোনায় চার মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ আব্দুল হামিদ এই আদেশ দেন। আসামি কবিরুন্নেছা (২২) পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের চং নয়াগাওয়ের আব্দুল জব্বারের সাথে মজলিশপুর গ্রামের মোছাঃ কবিরুন্নেছার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বাভাবিক সময়ের আগে সন্তান জন্ম হলে শিশুটি তার নয় উল্লেখ করে জব্বার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে কবিরুন্নেছা তার পাইকুড়ায় ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। ২০০০ সালের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চার মাসের শিশু রাজুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বাড়ির পিছনে ফেলে রাখে। গ্রামবাসী শিশুটির লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির লাশ উদ্ধার ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশের জেরার মুখে তিনি সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার এস আই মোঃ সামছুল হক বাদী হয়ে কবিরুন্নেছাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০১ সালের ৬ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। বছর খানেক হাজত বাসের জামিয়ে বেরিয়ে আসেন কবিরুন্নেছা। এরপর থেকে তিনি পলাতক। আটজনের সাক্ষগ্রহণ শেষে আজ আদালত রায় ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া আর আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট দিলুয়ারা বেগম।
