স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের এক সাবেক উপসচিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, সদর হাসপাতাল এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ চিকিত্সকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে পরস্পর যোগসাজশে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বুধবার কমিশনের সভায় মামলাগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।
শিগগিরই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হবে।
এ ছাড়া কটন টেক্সটাইল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শরু করছে দুদক। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে বুধবার এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অনুমোদিত দুটি মামলায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন হয়েছে তারা হলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব আবদুল মালেক, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিচালক ডা, এসজেড আতিক, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট রুহুল কুদ্দুস, জুনিয়র কনসালট্যান্ট নারায়ন প্রাসাদ সান্যাল, সিনিয়র কনসালট্যান্ট একেএম জাহাঙ্গীর আলম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মারুফ হাসান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট রহিমা খাতুন, মহাখালী ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের অ্যাসিসট্যান্ট রিপায়ার হাবিবুর রহমান, সেগুনবাগিচাস্থ তোপখানা রোডের বেঙ্গল সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানি প্রোপাইটার জাহের উদ্দিন সরকার, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার একেএম সোহরাব হাসান, কুষ্টিয়া গণপূর্ত উপবিভাগের হারুন-অর-রশীদ এবং সেগুনবাগিচা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটার আবদুস সাত্তার।
এ দিকে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামে সরকারের ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে এ মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারা হলেন—পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব (হাসপাতাল-২) আবদুল মালেক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিক, এমবিএম ইকবাল, ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং ব্লেয়ার এ্যাভিয়েশনের প্রোপাইটার মোকছেদুল ইসলাম।
দুদকের অপর এটি সূত্র জানায়, মেসার্স কটন টেক্সটাইল এন্ড এ্যাপারেলস লি.-এর চেয়ারম্যান খান আশরাফ আলীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করছে দুদক। বিদেশে অর্থ পাচার, নগদ সহায়তার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্সহ নানা অভিযোগে এ অনুসন্ধান হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
