বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর একদিনের মাথায় গ্যাসের দাম আবারো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। শুক্রবার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নসরুল হামিদ বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আবারো বাড়তে যাচ্ছে গ্যাসের দাম। মূলত গ্যাসের মজুদ ক্রমেই কমে যাওয়া, সিএনজি ব্যবহারে নিরূৎসাহিত করা ও এর পরিবর্তে এলপিজি চালু করাই গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণ। দাম বাড়ানোর ঠিক একদিন পর আবারো দাম বাড়ানোর ইঙ্গিতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও নেতিবাচক হিসেবে না দেখতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-বিইআরসি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সার কারখানা ছাড়া সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। আবাসিকে আগের ৪০০ টাকার জায়গায় এক চুলার নতুন দাম ৬০০ টাকা, ২ চুলায় ৪৫০ টাকার জায়গায় করা হয় ৬৫০ টাকা। সিএনজিতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়। সবচেয়ে বেড়েছে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের দাম, দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটারে করা হয়েছে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা।
দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে দেশের ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চের কথা বলছে বিইআরসি। একইসঙ্গে মানুষের আয় বাড়ার যুক্তিও দেখায় সংস্থাটি। এর আগে ২০১১ সালে সিএনজি'র দাম বাড়ানো হয়। তার আগে ২০০৯ সালে বাড়ানো হয় সব ধরণের গ্যাসের দাম। এদিকে, সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ার অজুহাত দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক এবং অন্যায় বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও কমে আসার কথা। সে অনুযায়ী কমার কথা বিদ্যুতের দামও। তাই উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ স্পষ্ট করতে সরকারের প্রতি দাবি ভোক্তাদের। পাশাপাশি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার যে প্রভাব দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পড়বে তা নিয়ে এখনই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন তারা।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের কপালে যেন বাড়তি চিন্তার রেখা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বাড়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে মানুষের আয়ে কোন প্রভাব ফেলবে না। তবে এ অজুহাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হলো, তাতে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা তাদের ওপর ঠিকই চাপবে। সরকারি কর্মজীবী ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরি করেন, তাদেরও অভিযোগ অনেকটা একই রকম। তাদের প্রশ্ন মাত্র ১২ থেকে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আয়ের হিসেব করে, সবার ওপর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাড়তি দাম চাপিয়ে দেয়া অযৌক্তিক।
এর আগে ২০১৪ সালে সরকার যখন বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল তখন কারণ হিসেবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে সামনে আনা হয়েছিলো। সেই ১৩০ ডলারের জ্বালানি তেল এখন ৪০ ডলারেরও নিচে। সে অনুযায়ী, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি, দামও কমার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ানো হল।
এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে শাক-সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, গ্যাস বিদ্যুতের বাড়তি দাম, জিনিস পত্রের দামের উপর যে প্রভাব ফেলবে, সেই চাপ তারা কতটা বহণ করতে পারবে? দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান ভোক্তাদের। ফোকাস বাংলা।
