বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৫, ০১:০৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বেসরকারি খাত। গতকাল শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘প্রতিরোধযোগ্য শিশু ও মাতৃমৃত্যু নির্মূলে বৈশ্বিক আহ্বান-২০১৫’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে সেমিনারে যোগদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।

 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিশু মৃত্যু এবং মাতৃমৃত্যু রোধে সরকারের সঙ্গে তাত্পর্য্যপূর্ণ অবদান রাখছে এবং বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে তাত্পর্য্যপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং আরো অনেক দূর যেতে হবে। সেমিনারে বক্তারা শিশু ও মাতৃমৃত্যু কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
 
এই সেমিনার স্বাস্থ্য খাত তথা পুষ্টি এবং জনসংখ্যা সেক্টরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার নিরসনে বিভিন্ন দের্শৃ এবং সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কেবল শিশু এবং মাতৃমৃত্যু রোধেই কাজ করে না, বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ৫ বছরের জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন নাসিম। নাসিম জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করতে এবং সেটা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী অফিসে একটি বিশেষ সেল খোলা হয়েছে।
 
মোহাম্মদ নাসিম জানান, আমরা স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে উত্সাহ দিচ্ছি। তিনি বলেন, সরকার টিকা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম, ভিটামিন এ বিতরণ, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং পরিবার পরিকল্পনায় বেসরকারি অংশিদারিত্বের সুযোগ নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নাসিম জানান, বেসরকারি খাতের অর্থায়নে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন হচ্ছে। দেশে দ্রুত বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠার ফলে মা, নতুন জন্ম নেয়া শিশুর জীবন রক্ষা করে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হচ্ছে বলেও জানান মোহাম্মদ নাসিম। কিছু হাসপাতাল তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জিওবি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে ইউএসএইড এবং লেরদাল ফাউন্ডেশনের  সহায়তায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে সমর্থ হচ্ছি। এছাড়া গ্লাক্সো স্মিথক্লিন তাদের মুনাফার ২৫ শতাংশ মাতৃস্বাস্থ্য, নতুন জন্ম নেয়া সন্তান এবং শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
 
নাসিম বলেন, পিপিপি’র উল্লেখযোগ্য সফলতা হলো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে এসএমএস’র মাধ্যমে সহায়তা করছে। এক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কোম্পানি, গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক, রবি, এয়ারটেল এবং টেলিটক ভূমিকা রাখছে। অনেক কোম্পানি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হটলাইন এবং টেলি মেডিসিন সার্ভিস চালু করেছে।
 
সেমিনারে দেয়া বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম মা ও শিশু মৃত্যু নির্মূলে এমডিজি পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আগামী ২০১৬-২০২১ মেয়াদি প্রকল্প কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করেছে। এতে এমডিজি পরবর্তী সময়ের কর্মসূচি প্রণয়নে উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে প্রাধান্য দেয়া হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ একটি উন্নত স্বাস্থ্যমান অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার একটি স্বাস্থ্যবান, সুখী এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা ও শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই বাংলাদেশ এশিয়ার অধিকাংশ দেশকে পেছনে ফেলে শিশু মৃত্যু হারের ক্ষেত্রে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় জানান, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ এবছরের মধ্যে ৩ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। এজন্য ৩ বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এখন দেশের সবকয়টি জেলা হাসপাতালে নবজাতক শিশুর জন্য বিশেষ আইসিইউ স্থাপনে উদ্যোগ নিচ্ছে।
 
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউএসএইড, ইউনিসেফ, বিল অ্যান্ড মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশন এবং টাটা ট্রাস্ট যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ২৪ দেশের মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হোটেল তাজে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন মোহাম্মদ নাসিম। এই সেমিনারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও জাতিসংঘ, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও এর কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
 
রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত্
 

সেমিনারে যোগদানের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ নাসিম রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন এবং তার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিল্লির ১৩, তালকাটোরা রোডে অনুষ্ঠিত শুভ্রা মুখার্জির শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহধর্মিণী লায়লা আরজু উপস্থিত ছিলেন।