কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিআরডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৫, ২৩:৫৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্মকর্তা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি চেক জালিয়াতি বিষয়ে কয়েক দফা তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনা প্রমানিত হাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুত্র জানায়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ফজলুল হক ২০টি চেক জালিয়াতি করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি গোপনে মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আফিসের একজন জানান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আদ্,সাতের অভিযোগ রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিআরডিবি কর্মকর্তা ফজলুল হক এই অফিসে যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বিআরডিবি অফিসের তত্বাবধায়নে যেসব প্রকল্প চলছে তাতে সুবিধাভোগীদের চাইতে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা। জানা গেছে, বিআরডিবি কর্মকর্তা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ ও ভুয়া নামে ঋণ উত্তোলন করে টাকা আতœসাৎসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি ভুয়া সমিতির কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি ২০টি চেকের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এবিষয়ে বিআরডিবি অফিসে একটি তদন্ত হলে তার এ দুনীতি ধরা পড়ে। তবে তদন্তকারী ওই কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ফেলায় ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
 খোঁজ নিয়ে জানাযায়, যাদের নামে ওইসব চেক ইস্যু করা হয়েছে তাদের নাম পরিচয়েও রয়েছে যথেষ্ট গড়মিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী এর সত্যতা  স্বীকার করে বলেন, আমরা সব জেনেও কিছু বলতে পারি না। বলতে গেলে তিনি আমাদের বেতন বন্ধ করে দেবেন। তার অনিয়ম, দুর্নীতি কারনে বিআরডিবি অফিসের কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ওই কর্মচারী আরো বলেন, বিআরডিবি অফিসে কর্মচারীরা বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে গেলেও ফজলুল হক উৎকোচ গ্রহণ করেন। এমনকি উৎকোচ ছাড়া তিনি সমিতির সদস্যদের পাশ বহিও প্রদান করেন না। এদিকে, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবি মিরপুর উপজেলা অফিসের অধিনে ১১৫টি সমিতি রয়েছে। এসব সমিতিতে স্বজনপ্রীতির মধ্যমে বিআরডিবি কর্মকর্তা ফজলুল হক যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ প্রদান করেছেন। অথচ এসব ঋণ গ্রহিতা প্রকৃত সদস্য না হওয়ায় এবং স্বাক্ষর জাল হওয়ায় মামলা করাও যাচ্ছেনা।
ফলে দিনের পর দিন অনাদায়ী থাকছে সরকারের লাখ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মিরপুর উপজেলার পল্লী  উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্মকর্তা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একটি মামলা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিআরডিবি কর্মকর্তা ফজলুল হক’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়, আমার অফিসের মাদকাসক্ত হিসাব রক্ষক ওয়াহেদ নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অফিসের অর্থ আত্মসাৎ করে আমার উপর দোষ চাপাবার চেষ্টা করছে।