তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিল চেয়ে দায়েরকৃত এক রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি কাজী-রেজা উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন।
এ দিকে আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত অপর রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশণ বেঞ্চে গতকাল এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একটি রিট আবেদন খারিজ এবং অপর রিটের শুনানি আংশিকশ্রুত থাকাবস্থায় একই বিষয়ে হাইকোর্টে রবিবার আরেকটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষে এ আবেদনটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ুয়া।
বৃহস্পতিবার আইন সচিব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিবকে আইনের ৫৭ ধারা বাতিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে লিগ্যাল নোটিস পাঠান। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই নোটিসের জবাব না পাওয়ায় এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে—তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই ৫৭ ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করা উচিত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা, ঢাবির শিক্ষক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, ঢাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহী ও লেখক রাখাল রাহার পক্ষে এই রিট আবেদন দায়ের করা হয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রিট খারিজ:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিলে গত ২৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং তথ্য সচিবকে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। কিন্তু নোটিসের কোনো জবাব না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন।
রবিবার হাইকোর্টে আবেদনের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস শুনানি করেন।
শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তাভবনা করছে। এই মুহূর্তে কোনো ধরনের রুল জারি করা হলে তাতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এরপর রিট আবেদনটি অপরিপক্ক বলে আদালত খারিজ করে দেয় বলে জানান তাপস কুমার বিশ্বাস।
রিটের শুনানি মুলতবি:
৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তির করা অপর রিট আবেদনটি শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রিট আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার শিশির মো. মনির শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এমনভাবে অপরাধ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যেমন ইন্টারনেটে যে কোন কর্মকাণ্ডকেই এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েই আছে। মানুষের বাক স্বাধীনতার জায়গাটি সংবিধানে যেটিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে সেই অধিকার হরণ হচ্ছে চরমভাবে। যেহেতু বাক স্বাধীনতা খর্ব করছে সেহেতু আইনটি সংবিধান বিরোধী ঘোষণার দাবি রাখে। এই আইনে পুলিশকে দেয়া হয়েছে ব্যাপক ক্ষমতা। যা মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করবে।
আবেদনকারী পক্ষে শুনানি শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করবেন বলে আদালতকে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। আদালত সোমবার বেলা ২ টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
সম্পর্কচ্ছেদের পর রিট আবেদনকারী জাকির হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুত্সা রটনা করেছেন এই অভিযোগে তার স্ত্রী আদালতে মামলা করে। গত ২৪ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলাটি করা হয়। ৫৭ ধারায় করা ওই মামলায় রিটকারী ভুক্তভোগী হওয়ায় তিনি এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।
