জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৫, ০০:২৭

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অতীতের চেয়ে বেশি সহায়তা করবে। পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোর প্রশংসাও করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রবিবার ইউএসএইডের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক অ্যাম্বেসেডর আলফনসো লেনহার্ড সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে বৈঠককালে এ সহায়তার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সি বার্নিকাট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 
বৈঠকে আলফনসো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ যেভাবে দেশি এবং বিদেশি অর্থ ব্যবহার করেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। এসময় তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এজন্য আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে ইউএসএইডের সহায়তায় যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং এর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ইউএসএইড আরো সহায়তা করবে বলেও জনান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অনেক অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে। এসব অর্জন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল করেছে।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা স্বপ্রণোদিত হয়ে দূষণ কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ বেশি দূষণ করে এ ঘোষণা তাদেরকেও দূষণ কমানোর ব্যাপারে উত্সাহিত করবে। বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলাবয়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অগ্রভাগে থাকলেও উষ্ণায়ন কমানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ মধ্যপন্থা গ্রহণে বিশ্বাসী। এ বছরের শেষে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই সম্মেলনে দূষণ কমানোর বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা চুক্তি হবে বলে সবাই আশা করে। এ ব্যাপারে সবার মাঝে ঐকমত্য তৈরি হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাতে যোগ দেবেন। ইউএসএইড-এর প্রশাসক নির্বাচিত হওয়ায় আলফনসোকে ধন্যবাদ জানান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
 
এসময় পরিবেশ ও বন উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ইউএসএইড-এর কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ প্রতিনিধি দলকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। 
 
এসময় ইউএসএইড বাংলাদেশের পরিচালক জানিনা জারুজেলসকিসহ সংস্থার কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইস উল আলম মণ্ডলসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
উল্লেখ্য, ইউএসএইড-এর সহায়তায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে আট কোটি ৪৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্পের কাজ চলছে।