বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালত চার্জশিট দুটি আমলে নেয়।
এ বিষয়ে পরে আদেশ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহণের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার অভিযোগে খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ঐ দুইটি মামলা করা হয়।
সোমবার হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার দুটি অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে গত ৫ মে ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বশির আহমেদ। ১৯ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের অপর এসআই জাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বরকত উল্লাহ বুলু, আমান উল্লাহ আমান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিশেষ সহকারী শামসুল ইসলাম শিমুল বিশ্বাস, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন দিদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, বিএনপির ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, প্রাক্তন এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ, তার ছেলে তানভীর ওরফে রবিন, নবীউল্লাহ নবী, কাইয়ূম কমিশনার, লতিফ কমিশনার এবং পেশাজীবী দলের নেতা সেলিম ভূঁইয়া।
চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এজাহারভুক্ত অপর ৪২ আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া হলে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামক এক বৃদ্ধ যাত্রী।
এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক কে এম নুরুজ্জামান। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় দায়ের করা হয় আরো একটি মামলা। মামলা দুটিতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মীসহ মোট ৮০ জনকে মামলার আসামি করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সোহাগ ও লিটন নামে দুজন গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে কারা কারা জড়িত, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
