ফেনী থেকে অপহৃত স্কুল ছাত্র রামগড়ে উদ্ধার, অপহরণকারী আটক

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২৩:৫১

প্রবাসী মামার কাছ থেকে মোট অংকের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আপন মামাত ভাইকে গত সোমবার ফেনী থেকে অপহরণ করে আজহারুল ইসলাম(২২) প্রকাশ আজাদ নামে এক যুবক। শিশু আইনুল ইসলাম আশিককে(১৩) অপহরণের পরদিন মঙ্গলবার রামগড় থেকে উদ্ধার হয়েছে।  রামগড় থানার পুলিশ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে।

থানার উপ পরিদর্শক মো: মানিক মিয়া জানান, আজহারুল ইসলাম শিশু আশিককে ফেনী সদর থেকে অপহরণ রামগড়ে নিয়ে আসে। আশিক অপহরণকারীর আপন মামাত ভাই। আশিকের পিতা নুরুল আমিন ভুইয়া সৌদি প্রবাসী। অপহরণকারী আজাদ শিশুটির বাবা ও মায়ের কাছে  পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রামগড় বাজারের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলা হয়। মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সূত্র ধরে পুলিশ অপহরণকারীকে আটক করে।
পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল অভিযান চালিয়ে রামগড় বাজার থেকে অপহৃত শিশু আশিককে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া শিশু  আশিককে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শিশু আশিক পুলিশকে জানায়, গত সোমবার তার আপন ফুফাত ভাই আজাদ স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। স্কুল ড্রেস পরিবর্তন করে ফুফাত ভাই আজাদ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। অটোরিকসায় করে ফেনীর মহিপাল এনে সেখান থেকে খাগড়াছড়ির বাসে করে রামগড়ের সোনাইপুল বাজারে নিয়ে আসে আজাদ।
 সোমবার সন্ধ্যার একটু আগে তারা সোনাইপুলে পৌঁছে। সোনাইপুল বাজারের পাশের জনৈক কামরুলের বাসায় শিশু আশিককে নিয়ে যায় আজাদ। ঐ বাড়ির গৃহকত্রীকে দূর সম্পর্কের খালা হিসাবে পরিচয় দেয়া হয় আশিকের কাছে। শিশু আশিক জানায়, আজাদ তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে। তাই সে বুঝতে পারেনি ফুফাত ভাই তাকে অপহরণ করেছে।
 অপহরণকারী আজাদের সহোদর নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পরও আশিক বাসায় না ফেরায়  তারা সবাই সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। রাতে আশিকের বাবা সৌদি আরব থেকে আজাদের মোবাইল ফোনে কল করে নিখোঁজ শিশু পুত্রের খোঁজখবর জানতে চাইলে সে জানায়, আশিক তার কাছে আছে। ১২ লাখ টাকা দিলে আশিককে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
মোবাইল ফোনে অনুরোধের  পর  মুক্তিপণের টাকা ১২ লক্ষ থেকে কমিয়ে ৮ লাখ টাকায় আনে আজাদ। আশিকের মা পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজী হন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আশিকের মা ও মামা ফেনী সদর থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের দেয়া প্ল্যান অনুযায়ি  বড় ভাই নজরুল আজাদকে ফোন করে একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর দিতে বলে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য। এরপ্রেক্ষিতে আজাদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রামগড় বাজারের একটি মোবাইল ফোন দোকানে গিয়ে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে নজরুলকে জানায়। ঐ দোকান থেকে বড় ভাই নজরুলের সঙ্গে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর কথপোকথন শুনে বিষয়টি রামগড় থানা পুলিশকে জানালে থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত এসে আজাদকে আটক করে।

থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর আজাদ তার আপন মামাত ভাইকে অপহরণের কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বাজারের একটি স্থান থেকে অপহৃত আশিককে উদ্ধার করে।