শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে জোর করে উপবৃত্তির টাকা কেটে নেওয়া ও এর প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার জের ধরে বুধবার দুপুরে বন্যাকান্দি এন এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা, স্কুলের সভাপতি আব্দুর রশিদ এবং সহকারী শিক্ষক মঞ্জিল ইসলামকে একদল যুবক হামলা চালায়।
হামলার খবর পেয়ে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল হুদা দ্রুত পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। মারপিটের সময় শিক্ষকগণ স্কুলের পার্শ্ববর্তী লালু মন্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিলে বিক্ষুদ্ধ যুবকেরা এই বাড়িটি ভাংচুর করে। এ সময় স্কুলের মুল ফটকও ভাংচুর করা হয়। এদিকে বন্যাকান্দি এন এম উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার স্কুল চত্বরে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
গত ২৭ আগস্ট এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বন্টনের সময় শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে জোর করে টাকা কেটে নেবার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২৯ আগস্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদের অপসারণ দাবি করে স্কুল ক্যাম্পাসে ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুই দফা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এদিন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) কাছে স্মারক লিপি প্রদান করে। নির্বাহী কর্মকর্তা পরদিন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
এদিকে স্কুলের সভাপতি শিক্ষার্থীদেরকে প্ররোচিত করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেওয়া ও স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করার জন্য উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ভূট্টোসহ মোট ১০ জনকে আসামী করে ৩০ আগস্ট স্কুলের সভাপতি বাদি হয়ে উল্লাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ জেল হাজতে পাঠায়। নজরুল ইসলামের গ্রেফতারের পরও তার লোকজন নজরুলের মুক্তির দাবিতে উল্লাপাড়া পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলার অপসারণ দাবি করে।
প্রহৃত প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা অভিযোগ করেন, বুধবার তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্কুলের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক মঞ্জিল ইসলামকে নিয়ে স্কুলে প্রবেশের সময় নজরুল ইসলামের লোকজন পরিকল্পিতভাবে লাঠি সোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা করে এবং তাদেরকে মারপিট করে। এতে প্রধান শিক্ষকের মাথা ফেটে যায়। মারপিটের ঘটনার সময় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণও উপস্থিত ছিলেন। গোলাম মওলা এই ন্যাঙ্কারজনক হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তাদের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল হুদা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
