সোনাতলায় বন্যা-নদী ভাঙ্গন অব্যাহত, ৬৩ পরিবার নদীগর্ভে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৬:০৫

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, তেকানী চুকাই নগর ইউনিয়নের ৫টি পরিবারের ঘর-বাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে বাঙ্গালী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সোনাতলা ইউনিয়নের ৩৪টি পরিবার ও জোড়গাছা ইউনিয়নের ২৪টি পরিবার। নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১৭ মিটারে দাঁড়ায়। বাঙ্গালী নদীতে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ১৭ মিটার। পানি ও ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় ওইসব এলাকার অভিভাবকরা পরিবারের সদস্য, গবাদি পশু ও ক্ষেতের ফসল নিয়ে শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহ উদ্দীন জানান, বর্তমানে ১৬ হাজার ৬শ’৯৬টি পরিবারের মোট ৩,৭২০ হেক্টর জমির রোপা আমন, আউশ,পাট, শাক-সব্জি,মাসকলাই ইত্যাদি ফসল পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এ পর্যন্ত ১৩৬ জন সুফলভোগী মৎস্য চাষীর ১০ লাখ ২১ হাজার টাকার মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান হাবীব ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, মাঠে বন্যার পানি ওঠার কারণে আব্দুল মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পিএম দাখিল মাদ্রাসা, রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালুয়াপাড়া সরকারি প্রাথিমিক বিদ্যালয়সহ ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানায়, বন্যায় এখনও কোন নলকূপের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রায় প্রতিদিন এ অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তৎপর রয়েছেন।