টোটাল সিকিউরিটি সলিউশনে মনোযোগী এইচআইকে ভিশন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:০৭

বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর সিকিউরিটি কোম্পানি হিসেবে এইচআইকে ভিশনের সিকিউরিটি সলিউশন আমাদের দেশে বাজারজাত হতে শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে এক্সেল টেকনোলজিস লি.-এর হাত ধরে। এইচআইকে ভিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বাজারে এইচআইকে ভিশনের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন কোম্পানিটির কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার কেভিন ফ্যাং। এক্সেল টেকনোলজিসের আমন্ত্রণে সম্প্রতি কেভিন ফ্যাং এসেছিলেন বাংলাদেশে। তার সাথে কথা হয় এইচআইকে ভিশনের পণ্য ও সেবা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব বাজারে এইচআইকে ভিশনের অবস্থান এবং এইচআইকে ভিশনের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোজাহেদুল ইসলাম

 
বর্তমানে ডিজিটাল সিকিউরিটি সলিউশন ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্ব বাজারে এইচআইকে ভিশনের অবস্থান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেভিন ফ্যাং বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব বাজারে এইচআইকে ভিশন শীর্ষস্থানীয় সিকিউরিটি ব্র্যান্ড হিসেবেই নিজেদের অবস্থানকে ধরে রেখেছে। চীন, থাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়ার মতো অনেক দেশেই এটি সিকিউরিটি ব্র্যান্ড হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৪ সালে এইচআইকে ভিশনের রাজস্ব আয় ছিল ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি। গত বছরে চীনে এইচআইকে ভিশনের বাজার বেড়েছে শতভাগেরও বেশি।’
 
বাংলাদেশের বাজারে এইচআইকে ভিশনের অবস্থান প্রসঙ্গে কেভিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা এক্সেল টেকনোলজিসের সাথে এইচআইকে ভিশন নিয়ে কাজ শুরু করেছি ২০১৩ সাল থেকে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে আমরা কাজ করছি মাত্র দুই বছর ধরে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই এইচআইকে ভিশন পণ্যের বাজার খুব স্থিতিশীলভাবে বেড়েছে। এবং এখন আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশেও এইচআইকে ভিশন পণ্যের অবস্থান শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে এত দ্রুত এই অবস্থান অর্জন অভাবনীয় এবং এই ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই এক্সেল টেকনোলজিসকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’ দেশীয় এই পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজারে এইচআইকে ভিশন পণ্যের প্রসার প্রসঙ্গে কেভিন বলেন, ‘এক্সেল টেকনোলজিসের কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট। তারা যেভাবে এইচআইকে ভিশন পণ্যকে দেশের বিভিন্ন স্তরের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। এখন বাংলাদেশের প্রযুক্তি সচেতন মানুষের কাছে এইচআইকে ভিশন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পৌঁছে গেছে। শুরুর দিকে এই পণ্যটি রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক বাজারজাত হলেও এখন ঢাকার বাইরেও এইচআইকে ভিশনকে পৌঁছে দিতে আমরা একযোগে কাজ করছি। ভবিষ্যতে এইচআইকে ভিশন দেশের সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’
 
এইচআইকে ভিশনের পণ্য ও সেবার ধরণ প্রসঙ্গে কেভিন বলেন, ‘সিকিউরিটির সাথে সম্পর্কিত সব ধরনের পণ্য ও সেবা নিয়েই কাজ করছে এইচআইকে ভিশন। আগেকার দিনে নিরাপত্তার জন্য যে অ্যানালগ ক্যামেরা ব্যবহূত হতো, তার ডিজিটাইজেশন এইচআইকে ভিশনের হাত ধরেই এসেছে। এই সংক্রান্ত উদ্ভাবনের প্যাটেন্টও এইচআইকে ভিশনের নামেই রয়েছে। পরবর্তী সময়ে একদম ভোক্তা পর্যায়ের সিকিউরিটি পণ্য থেকে শুরু করে এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের জন্যও প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি সলিউশন বাজারে এনেছে এইচআইকে ভিশন। শুধু তাই নয়, গোটা একটি শহরকেও সার্ভাইল্যান্স বা সিকিউরিটি নজরদারির আওতায় নিয়ে আসার মতো প্রযুক্তিও এইচআইকে ভিশনের রয়েছে। অন্যান্য অনেক সিকিউরিটি ব্র্যান্ডই কেবল সিকিউরিটি হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করলেও এইচআইকে ভিশন সিকিউরিটির সার্বিক সলিউশন নিয়ে কাজ করে থাকে।’
 
সিকিউরিটি সলিউশন ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বব্যাপী অনেক বড় বড় প্রকল্পে সাফল্যের সাথে সেবা প্রদান করেছে এইচআইকে ভিশন। কেভিন বলেন, ‘সিঙ্গাপুর সেফ সিটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিটি সার্ভাইল্যান্স প্রজেক্ট। এটি এইচআইকে ভিশন সফলভাবেই বাস্তবায়ন করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ স্টেডিয়াম চীনের বার্ড’স নেস্টের সিকিউরিটি সলিউশনও এইচআইকে ভিশনের। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সিকিউরিটি সলিউশনের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছে এইচআইকে ভিশন।’
 
শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয়, বাংলাদেশেও এরই মধ্যে বড় বড় বেশকিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে এইচআইকে ভিশন। কেভিন জানান, বাংলাদেশের বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনে এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সিকিউরিটি সলিউশন বাস্তবায়নের কাজ করেছে এইচআইকে ভিশন। এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও চলমান যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৃহত্তম সিকিউরিটি সলিউশন প্রকল্প। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি সলিউশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও কাজ করেছে এইচআইকে ভিশন। সিঙ্গাপুর সেফ সিটির আদলে রাজধানী ঢাকাতেও সিটি সার্ভাইল্যান্স বাস্তবায়নে সরকারের সাথে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এইচআইকে ভিশন। চীন সরকারে সাথে যৌথ উদ্যোগে কিংবা পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ (পিপিপি) কৌশলেও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব বলে জানান তিনি।
 
বাংলাদেশের বাজারে এইচআইকে ভিশন পণ্যের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেভিন বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে সিকিউরিটি ব্র্যান্ড হিসেবে এখন এইচআইকে ভিশনের অবস্থান অনেকটাই পোক্ত। এইচআইকে ভিশনের এই সুনাম ব্যবহার করতেই এখন বাজারে এইচআইকে ভিশনের নকল পণ্য দেখা দিতে শুরু করেছে। তাছাড়া সরকার অনুমোদিত চ্যানেলের বাইরেও এইচআইকে ভিশনের অনেক পণ্য বাজারে আসছে। এগুলোই আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা গ্রাহকদের প্রকৃত পণ্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছি।’
 
অন্যান্য সিকিউরিটি ব্র্যান্ডের চাইতে কোন দিক থেকে এইচআইকে ভিশন এগিয়ে রয়েছে, তা জানতে চাইলে কেভিন বলেন, ‘আমরা দুইটি বিষয়ে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকি—গুণগত মান এবং আর্থিক সাশ্রয়। আমরা সবসময়ই চেষ্টা করেছি যাতে যেকোনো পর্যায়ের গ্রাহকের হাতে তার সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের পণ্যটি তুলে দিতে পারি। চীনে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) সেন্টারে চার হাজারেরও বেশি দক্ষ জনবল কাজ করে যাচ্ছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ আরঅ্যান্ডডি হিসেবে স্বীকৃত। আরঅ্যান্ডডি সেন্টার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’
 
কেভিন জানান, বাংলাদেশের বাজার তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য তাই নিকট ভবিষ্যতে বিশেষায়িত পণ্য প্রস্তুতের পরিকল্পনাও রয়েছে এইচআইকে ভিশনের।