যৌন নিপীড়নের মামলায় শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৫:০৬
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে যৌন নিপীড়নের মামলায় সুহাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরবন্ধু সরকারকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বুধবার রাতে মেয়েটির বাবা মোরেলগঞ্জ থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
 
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৬জুন বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে ওই ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেবা প্রদানের নামে প্রধান শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে ছাত্রীটি পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেয়। ঘটনা জানাজানি হলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি পরবন্ধু সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তবে ওই শিক্ষক প্রথম থেকেই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে আসছেন।
 
সুহাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাড. প্রবীর রঞ্জন হালদার জানান, ছাত্রী নিপীড়নের বিষয়টি মোরেলগঞ্জ থানাকে জানালেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি ৩১আগস্ট স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজপি, বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও মোরেলগঞ্জ থানার ওসিকে প্রতিপক্ষ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সম্মন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চ তার রিট আবেদন শুনানি শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্রী নিপীড়নের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদেশ দেন। ওই রুলের কপি হাতে পেয়ে পুলিশ বুধবার রাতে মেয়েটির বাবাকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করে।
 
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় বিগত সময়ে কোনো ছাত্রী বা তার পরিবার থানায় মামলা করতে আসেনি। মেয়েটির বাবা বুধবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আমরা বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ মামলার বিষয়বস্তুর সত্যতা সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব না।‘  
 
গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক পরবন্ধু বৃহস্পতিবার বাগেরহাট আদালত চত্ত্বরে সাংবাদিকদের জানান, তিনি চক্রান্তের শিকার। শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির গচ্ছিত টাকা থেকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা না দিতে পারায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। গত আগস্ট মাসে মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবন্ধু একই দাবি করেছিলেন। 
 
তবে পরবন্ধুর এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি প্রবীর রঞ্জন হালদার।