হাঙ্গেরিতে শরণার্থীদের এখনও আটকে রেখেছি স্থানীয় পুলিশ। এর আগে গতকাল হাঙ্গেরির সীমান্ত থেকে শরণার্থীদের ট্রেনে উঠতে দিলেও এরপর থেকে তাদের স্টেশনেই আটকে রেখেছে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া যুদ্ধ, আইএস সংকটের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ তুরস্ক দিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি সবার আগে স্বাগত জানালেও সবাই এখনো নিশ্চিত নয় তারা কী করবে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানিতে পা রাখছে শরণার্থীরা। এই রুট ধরে জার্মানি যাওয়ার পথে শরণার্থীদের হাঙ্গেরির রাজধানী যাওয়ার ট্রেনে উঠতে দিলেও এরপর তাদের আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরির পুলিশ। এরপর পুলিশ বেশ কয়েক বার ট্রেন থেকে শরণার্থীদের নামিয়ে দিতে ছোটখাট সংঘর্ষ হয় শরণার্থীদের সঙ্গে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল শরণার্থীরা।
IMG0
হাঙ্গেরিয়ান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবার্ন, গত বৃহস্পতিবারে বলেছিলেন তার দেশে এত মুসলিম শরণার্থী গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে তিনি শরণার্থীদের সমস্যাকে ‘জার্মান সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেন কারণ যারা এসেছে তাদের লক্ষ্য মূলত জার্মানিতে প্রবেশ করা। লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জ্যঁ অ্যাসেলবর্ন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে বলেন, এমন একজন মানুষের জন্য যে কোনো মানুষই লজ্জিত বোধ করবে।
জাতিসংঘ শরণার্থী পুনর্বাসন হাই কমিশন থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে কমপক্ষে ২ লক্ষ মানুষ ইউরোপজুড়ে আশ্রয় পায়। গতকাল ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরে ইউরোপিয়ান নেতারাও বিহবল হয়ে পড়েন।
IMG1
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা যথেষ্ট পরিমাণ শরণার্থীকে আশ্রয় দেবেন। আজ ইউরোপিয়ান কমিশনের সদস্যরা গ্রিসের কস আইল্যান্ডে যাচ্ছেন প্রকৃত অবস্থা নিজ চোখে দেখতে। এছাড়া ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দেখা করছেন আজ। স্লোভাকিয়া, চেক, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের নেতারা একটি ভিন্ন বৈঠকে চেক এর রাজধানী প্রাগে দেখা করছেন শরণার্থী ইস্যুতে।
