ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তার দেশে আরো বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ সব আশ্রয়প্রার্থীকে সিরিয়ার সীমান্তে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে নেয়া হবে। কতজন শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া হবে তা স্পষ্ট করে বলা না হলেও ডেভিড ক্যামেরন তা কয়েক হাজার বলে আভাস দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে—ব্রিটেন আরো প্রায় ১০ হাজার সিরিয়ান শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে। খবর বিবিসি।
অভিবাসীদের জন্য আরো কিছু করার ব্যাপারে ক্যামেরনের ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষিতে তিনি স্পেনে বৈঠক শেষে এব্যাপারে ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যামেরন স্পেনে যাওয়ার উদ্যেশ ইইউর সংস্কারের ব্যাপারে স্পেন ও পর্তুগালের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে আলোচনা করা কিন্তু তাদের আলোচনার প্রধান বিষয় এখন হয়ে যাচ্ছে অভিবাসী সংকট মোকাবিলা। তুরস্কের উপকূলে পড়ে থাকা তিন বছরের সিরিয়ান শিশু আলান কুর্দির লাশের ছবি সারা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হওয়ার পর শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে ক্যামেরনের ওপর চাপ আরো বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ক্যামেরন বলেন, একজন পিত হিসেবে আলান কুর্দির ছবি তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে তার ওপর জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের দিক থেকে চাপ আছে।শরণাথীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য
ডেভিড ক্যামেরনকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছেন স্কটিশ নেতা নিকোলা সারজিওন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ব্লানকেট বলেছেন আগামী ৬ মাসে ২৫ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া উচিত্ ব্রিটেনের।
২০১৪ সালের পর ব্রিটেন ২১৬ জন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। গত চার বছরে মোট ৫ হাজার সিরিয়ান শরণার্থীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিযেছে ব্রিটেন। চার্চ,বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ক্যামেরন সরকারকে ১০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে চাপ দিয়ে আসছে। আরো বেশি শরাণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ইঙ্গিত দেয়ার পর ব্রিটেন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ড রিং বলেন, ১০ হাজার সিরিয়ার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা ব্রিটেনকে ইউরোপের যেসব দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের কাতারে নিয়ে যাবে।
