আধুনিক সভ্যতা নির্মাণে প্রয়োজন তিন ‘শূন্য’: ড. ইউনুস

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৯:৪৯

নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি নতুন সভ্যতা নির্মাণের জর্ন্য জন্য তিনটি সূচক শূণ্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন-শূন্য দারিদ্র্য হার, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ। ভারতে ডক্টর দেবি শেঠির নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল উদ্বোধন করতে গিয়ে এই কথা বলেন তিনি।

সামাজিক ব্যবসার এই অগ্রদূত মাইশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেছেন।

নারায়ণ হেলথের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী  ডা. দেবী শেঠী “এনএইচ সুপার স্পেশালিটি ক্যান্সার হসপিটাল” উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাকীর্ণ অডিটোরিয়ামে বলেন, একটি নতুন সভ্যতা নির্মাণের লক্ষ্যে সমাজের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক শূণ্যতে নামিয়ে আনতে হবে- সূচকগুলো হচ্ছে শূন্য দারিদ্র , শূন্য কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য বেকারত্ব।

 

উল্লেখ্য, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশীরা বছরে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেন। শুধু ব্যঙ্গালোরের নারায়ণ হেলথেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০০ বাংলাদেশি যান।

এদিকে মাইশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন অধ্যাপক ইউনূস। ড. ইউনুসের  শতবর্ষ-পূর্তি বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বর্ষ-ব্যাপী অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এ ছাড়া  বর্তমানে এক লক্ষ শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করছে।  বাংলাদেশের ৭০ জনসহ ৬০ টি দেশের ১৫০০ শিক্ষার্থী  এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। দক্ষিণ ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক ইউনূসের বক্তৃতা শোনার জন্য প্রায় ১,৫০০ ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিল্পপতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

IMG0

মাইশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাইশোরের ঐতিহ্যবাহী “পেতা” (একধরণের টুপি)  ও  চন্দনকাঠের আবক্ষ মূর্তি দিয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে বরণ করেন। ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. রাধাকৃষ্ণন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। ড. ইউনুস প্রথম নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন।