অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলে আসা ম্যাচটার নৈপুণ্য এখনও জ্বলজ্বল করছে। তার মধ্যেই বাংলাদেশ দল গত শুক্রবার মধ্যরাতে দেশে ফিরে আবার মাঠে নেমে পড়লো জর্ডানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আরেকটি লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার জন্য। মঙ্গলবার জর্ডানের বিরুদ্ধে এ খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। এটিও কঠিন হবে বাংলাদেশের জন্য। এ জন্যই কোনো বিশ্রাম না নিয়ে কাল বৃষ্টিভেজা মাঠেই নামলেন খেলোয়াড়রা।
চারবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলের লড়াই করা চাট্টিখানি কথা নয়। পার্থে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ০-৫ গোলে হারলেও অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলারদের ক্ষীপ্রতা এখনও ভুলতে পারছেন না বাংলাদেশের গোলাকিপার, ডিফেন্ডাররা। আক্রমণভাগের ফুটবলাররা দেখেছেন তাদের ছাপিয়ে কিভাবে নিজেদের রক্ষণভাগটা গুঁড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া ফুটবলাররা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা সেদিন অধিকাংশ সময় বিপক্ষকে ভালভাবে রুখে প্রশংসা পেয়েছেন। পার্থে প্রবাসী বাঙালিরাও মামুনুলদের বাহবা জানিয়েছেন সেদিন খেলা শেষে। আরো বড় স্কোর হতে পারতো সেটা হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ঢাকায় ফিরেই জাতীয় ফুটবল দল কাল বিকালে অনুশীলনে নেমেছিল শেখ জামাল মাঠে। সন্ধ্যায় অনুশীলন শেষে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ বলছিলেন,‘প্রশ্নটা হতে পারতো কতো গোলে হারতে পারতাম। সেটা তো হয়নি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ফুটবল পার্থক্যটা আলোকবর্ষ দূরত্বের। এমন ম্যাচে আমরা তো আরো বড় ব্যবধানেও হারতে পারতাম।’
খেলোয়াড়রাও এমনটাই অনুভব করছেন। কেননা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর দুই দিন আগে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া প্রীতি ম্যাচটা গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একই দিনে মালয়েশিয়া আরব আমিরাতের কাছে ১০-০ গোলে হেরেছে। কাতারের কাছে ১৫-০ গোলে হেরেছে ভুটান, কুয়েতের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছে মিয়ানমার। আর অস্ট্রেলিয়া তো ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলে আসা দল। তাদের আছে চারটা বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা।
অজিদের বিরুদ্ধে ভালো খেলেছেন গোলকিপার সোহেল। ডিফেন্ডার ইয়াসিনরা। খেলোয়াড়রা জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিনটি গোল হজমের পেছনে নিজেদের ভুল-ত্রুটি বেশি ছিল। তপু বর্মণের পায়ে লেগে দুটি গোল হয়েছে। তৃতীয় গোলটিও একটা ভুলে হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। খেলোয়াড়রা বলছিলেন, আমরা মাত্রই মাঠে নামলাম। খেলাটা শুরু করতে না করতেই গোল। গোলকিপার সোহেল বলছিলেন,‘ওরা মাঠে প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে। আমরা সেখানে পিছিয়ে গিয়েছিলাম। আমি এখনও ভুলতে পারছি না ম্যাচের রাতটা।’ সোহেল ম্যাচের আগের রাতে ঘুমাতে পারেননি। সোহেল বলছিলেন,‘অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলারদের ফিটনেস অন্য রকম। ওদের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা আমাদের চেয়ে অনেক পার্থক্য।’ ইয়াসিন তার ম্যাচ অভিজ্ঞতা থেকে বললেন,‘আমরা চার বছর প্র্যাকটিস করলেও ওদের সাথে খেলাটা কঠিন। স্ট্রাইকার স্পট জাম্প করলে আমার বুকের উপর পা দেখা যায়।’ সোহেল বললেন,‘আমি বলের জন্য ফ্লাইটে গিয়েছি, দেখি ওদের স্ট্রাইকারও হেড করতে উঠছে। স্ট্রাইকারের পা আমার চোখের সামনে।’ আক্রমণভাগে জাহিদকে নামানো হয়নি। খেলেছিলেন তরুণ উইংগার জুয়েল রানা। বড় মাপের ম্যাচ খেলতে নেমে চোখে দেখে এসেছেন বিপক্ষ কতটা কঠিন লড়াই। বললেন,‘আমি আক্রমণভাগে খেলি। অথচ আমিও রক্ষণভাগে নেমে এসেছিলাম।’
কোচ ক্রুইফ ফুটবল বাস্তবতা বুঝাতে চাইলেন। অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ফুটবলের অসম লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ গোলে হার নিয়ে কোনো হতাশা নেই খেলোয়াড়দের মধ্যে। তবে এধরনের ম্যাচ আরো বেশি বেশি খেললে উন্নতি হবে বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা। হেমন্ত, নাসিরুল, ইয়াসিন খানসহ দলের মধ্যে কয়েকজন ফুটবলার চোট পেয়েছেন।
