প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌবাহিনীকে আরো আধুনিক করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। রবিবার দুপুরে মংলার দিগরাজে নির্মিত দুটি জাহাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কারো সঙ্গে যুদ্ধ নয়, শান্তিই কাম্য। তবে আত্মরক্ষার ক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে।
সমুদ্রসীমায় সম্পদের সুষ্ঠু নিরাপত্তায় নতুন জাহাজগুলোকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কাজে লাগাতে নৌবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা শিপইয়ার্ডে (কেএসওয়াই) দুটি ‘লার্জ পেট্রোল ক্র্যাপস্ট’ (এলপিসি) এর নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করবেন। এটাই হবে দেশে নির্মিত প্রথম যুদ্ধজাহাজ।
উল্লেখ্য, কেএসওয়াই এর আগে ৫টি পেট্রোল ক্র্যাপস্ট নির্মাণ করেছে।
২০১৩ সালে ৫টি ছোট যুদ্ধজাহাজ (পেট্রোল ক্রাফট) তৈরি করে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল খুলনা শিপইয়ার্ড। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বড় আকারের অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকাজ শুরু করছে সংস্থাটি। সশস্ত্র বাহিনীতে এগুলো লার্জ পেট্রোল ক্রাফট বা এলপিসি নামে পরিচিত। দেশের মাটিতে বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ এটাই প্রথম। আর সেই যুদ্ধজাহাজের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে আজ মংলার গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নৌবাহিনীকে আধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।
স্বন্দীপ ও হাতিয়া নামের এই দুটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একটি আধুনিক নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা বঙ্গবন্ধু অনুভব করেছিলেন এবং ছয় দফায় সেটা উল্লেখ করেছিলেন। নৌবাহিনীতে খান জাহান আলি নামের একটি নিজস্ব ট্যাংকার সহ মোট দুটি জাহাজের কমিশন্ডও সম্পন্ন হয়েছে নৌবাহিনীতে।
শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালের ৩০শে জুন নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। প্রতিটি জাহাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। একই ধরনের দুটি এলপিসি চীন থেকে তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
