সব আমলেই ‘ক্রিম’ খাচ্ছে পুলিশের সুবিধাবাদীরা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০২:০৬

 ‘পুলিশের একশ্রেণির কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নেয়াসহ প্রশাসনিক ক্রিম খেয়েছেন। তাদের দাপটে সেই সময় অনেকেই ছিলো তটস্থ। ওয়ান-ইলেভেনেও তারা দাপট নিয়ে চলেছেন। এরা বিএনপি-ছাত্রদল-শিবিরের ক্যাডার হিসাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন। মজার কথা হলো, বর্তমান সরকারের আমলেও সেই সব কর্মকর্তা দাপটের সঙ্গে চাকরি করে যাচ্ছেন। পদোন্নতি, ভালো জায়গায় বদলিও পেয়েছেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বনে গেছেন তারা!’

 
১৭তম বিসিএসের পুলিশের এক কর্মকর্তা আক্ষেপের সুরে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভাই দেখুন, আমার সঙ্গে চাকরিতে যোগদানকারী সহকর্মীদের অনেকেই এসপি হিসাবে কর্মরত। অনেকের অতিরিক্ত ডিআইজি হওয়ার ফাইল চালাচালি হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। আর আমি এখনো অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি ঘুষ খাই না, অনিয়মের সঙ্গে নেই, দুর্নীতি করি না তবুও আমি বঞ্চিত।’
 
জানা যায়, বিএনপির সময় এক কর্মকর্তা ছাত্রদলের ক্যাডার হিসাবে বেশ পরিচিত ছিলেন। সেই অফিসারের দাপট বহাল ছিলো ওয়ান ইলেভেনেও। অনেক আগেই তিনি ডিআইজি হয়ে গেছেন। এখন তাকে একটি মহানগরের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
 
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রদল করা এক কর্মকর্তা। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তার কাছে ছিলেন অসহায়। সেই তিনিই এখন বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি জেলার এসপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক কর্মকর্তা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফর রহমান বাবরের পিএস হিসাবে কাজ করতেন। তিনিও পুলিশ সদর দফতরের  গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।  এরকম শতাধিক সুবিধাভোগী কর্মকর্তা রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা ঘুষখোর পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবেও পরিচিত ছিলেন।
 
এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই সুবিধাভোগী ক্রিম খাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে এমপি-মন্ত্রীদের তদবির। এদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় না। এদের অনেকেই মহানগর পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। এদের কারণে পুলিশের যতো বদনাম। এই সুবিধাভোগী পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণে সত্, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী কর্মকর্তারা বরাবরই বঞ্চিত হচ্ছেন।
 
জানা গেছে, এই সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনীতে রেকর্ড পদোন্নতিসহ নানামুখী উন্নয়ন করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা। তবে এসব সুবিধাভোগী অফিসারদের কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া এসব অফিসারের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
 
এদিকে বিএনপির আমলে ভোলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন পুলিশ অফিসারকে সাজা দেয়া হয়। এখন সেই অফিসার পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত আছেন। পুলিশের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা বিএনপির সময় ওএসডি ছিলেন।
 

পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, পরিবারের দুই-একজন ব্যতিক্রম থাকবেই। তাদের নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পিছিয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই। শীর্ষ কর্মকর্তারা ঠিক থাকলে সুবিধাভোগীরা অনিয়ম করার কোন সুযোগ পায় না বলেও তিনি জানান।