দেড় লাখ চাকরি প্রত্যাশীর অপেক্ষার ১১ বছর

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৩:৫২

দেড় লাখ চাকরি প্রত্যাশীর অপেক্ষার ১১ বছর চলছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিরব। উদাসীন কর্তৃপক্ষের ভাবনা নেই–এসব চাকরি প্রত্যাশীর চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হয়েছে বা অনেকের হচ্ছে। কবে প্রতীক্ষার অবসান হবে– তার উত্তরও জানা নেই কারো। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে  এমএলএসএস ও দারোয়ান পদে নিয়োগ সংক্রান্ত। ২০০৪ সালে প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তর সূত্রমতে প্রায় দেড় লাখ আবেদনকারী ছিলেন সে সময়। ৪১৮ জন এমএলএসএস এবং ৭৬ জন দারোয়ান নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। একই বছর ২১ জুলাই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয় এবং ২৬ অক্টোবর অজ্ঞাত কারণে ফল ঘোষণা না করে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। 
 
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে তদ্বিরের বিশাল চাপ সামলে নিয়োগ কার্যক্রম চালাতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা রাজি হচ্ছেন না। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন এমএলএসএস ও দারোয়ানের ৪৯৪টি পদের বিপরীতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী আর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের তদ্বির কয়েক বস্তা। যা গুণতেই সাহস পায় না-অধিদপ্তর। তাই এ নিয়োগের দরজা তারা খুলছেন না । 
 
বিজ্ঞপ্তির ১৩ নম্বর কলামে অবশ্য বলা আছে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের কারণে কর্তৃপক্ষ কারো চাকরি দিতে বা ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করতে বাধ্য নন। এই অন্যায্য শর্তে পার হয়ে গেল ১১ বছর। গরিব ঘরের সন্তানেরা ৫০ টাকা জোগাড় করে চাকরির আশায় আবেদনের সঙ্গে পোস্টাল অর্ডার দিয়েছিল। সেটিও কী কর্তৃপক্ষ ভুলে গেলেন। তাদের পোস্টাল অর্ডারে দেয়া টাকা কী হজম করার কোনো আইন-বিধি দেশে আছে।
 
পরবর্তীতে অবশ্য ২০০৮, ২০১১ ও ২০১২ সালে প্রথম বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় পুনরায় চাকরির জন্য দরখাস্ত আহবান করে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এতে বলা ছিল পূর্বে যারা আবেদন করেছিলেন তাদের আবেদনের প্রয়োজন নেই। নতুন করে আরো প্রায় ৫০ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। ২০১১ সালের ২১ জুলাই মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু ফল ঘোষণা হয়নি।
 
এরপর আরও দুই বছর পর ২০১৪ সালের ৯ মে সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার গুজবে তাও স্থগিত রাখা হয়। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
 
২০০৪ সালের এমএলএসএস পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম ইত্তেফাক অফিসে এসেছিলেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, অভাবী পরিবারের দেখভালের কেউ নেই। তাই তার ভাবনা ছিল চাকরি পেলে তা দিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণে সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি নিজের লেখা পড়া চালিয়ে যাবেন। দুই দুই বার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও জানতে পারলেন না তার চাকরির ভাগ্যটা কী হবে? তাই সংবাদপত্রে ছুটে এসেছেন। ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচাল আলমগীর হোসেনের (মোবাইল ফোন নম্বর ০১৫৫২৩৭৪১১৫) সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি।