আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুনাম নষ্ট হয় এমন কাজ কেউ করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মনে রাখতে হবে- দেশের উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কাজীপুরের দলীয় কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা কাজীপুরের দুর্গম চরাঞ্চল তেকানী, মনসুরনগর ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সম্ভব সব কিছুই করবেন। বন্যার পানি নেমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কাজ শুরু করা হবে।
মন্ত্রী সকালে কাজীপুরের বাসা থেকে বের হয়ে স্পিড বোটে প্রমত্তা যমুনার উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে প্রথমে পৌঁছান তেকানী ইউনিয়নে। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। পরে মোহাম্মদ নাসিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাবেদ আলী, হারান সেখসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। সেখানে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনার রশীদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শাফিউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর মন্ত্রী নৌকাযোগে যান মনসুর নগর ইউনিয়ন এবং নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে। এসব স্থানে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম।
সন্ধ্যায় তিনি কাজীপুরের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। রাতে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়ালিয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৬ কিমি বিদ্যুত্ লাইনের বিদ্যুত্ সঞ্চালন এবং ৫শ পরিবারের মধ্যে বিদ্যুত্ সংযোগের উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিদ্যুত্, সার, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ গ্রামের মানুষ এখন আধুনিক সভ্যতার সকল সুবিধা ভোগ করছেন।