কৃত্রিম হাতে যুক্ত হলো স্পর্শের অনুভূতি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:৫৯

জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যাদের অঙ্গহানি ঘটেছে, তাদের জন্য কৃত্রিম অঙ্গের ব্যবহার শুরু হয়েছে অনেকদিন হলো। এর আগে অনেকেই কৃত্রিম হাত ব্যবহার করে সফলভাবেই নানা ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এতদিন পর্যন্ত এসব কৃত্রিম হাতের সীমাবদ্ধতার একটি মূল জায়গায় ছিল স্পর্শের অনুভূতির অভাব। কৃত্রিম এসব হাতে নানা ধরনের কাজ করা গেলেও এর ব্যবহারকারীর পক্ষে স্পর্শের অনুভূতি পাওয়া সম্ভব ছিল না।

 
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (ডারপা) এবার সেই সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছে। সম্প্রতি তারা এমন একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করতে পেরেছে যা এর ব্যবহারকারীকে স্পর্শের অনুভূতি ফিরিয়ে দিয়েছে।
 
এক দশকেরও বেশি সময় আগে মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া ২৮ বছর বয়সী এক যুবককে প্রদান করা হয়েছে এই কৃত্রিম হাত। এর মাধ্যমে দশ বছরেরও বেশি সময় পরে হাতে স্পর্শের অনুভূতি ফিরে পেয়েছেন এই যুবক।
 
কৃত্রিম এই হাতে স্পর্শের অনুভূতি সংযুক্ত করতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে ডারপা। এতে করে এই কৃত্রিম হাতটিকে সরাসরি তারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স অঞ্চলে। এর ফলে মস্তিষ্ক থেকে প্রদান করা বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যালকে এই হাত তার নড়াচড়ার নির্দেশনা হিসেবে অনূদিত করতে পারে।
 
স্পর্শের অনুভূতি সংযুক্ত করতে ওই যুবকের মস্তিষ্কের সেন্সরি কর্টেক্সে ইলেক্ট্রোড অ্যারে স্থাপন করা হয়েছে। মস্তিষ্কের এই অঞ্চলটি মূলত স্পর্শের অনুভূতি প্রদান করে থাকে। এই অঞ্চলটিকে ইলেক্ট্রোড অ্যারের মাধ্যমে কৃত্রিম হাতে সংযুক্ত করার ফলেই হাতটি স্পর্শের অনুভূতি প্রদান করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
 
এই সাফল্য প্রসঙ্গে ডারপার কৃত্রিম অঙ্গ কর্মসূচির প্রধান জাস্টিন সানচেজ বলেন, ‘আমরা সফলভাবে এই সার্কিটটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। কৃত্রিম অঙ্গ দীর্ঘদিন থেকেই সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আমাদের নতুন এই সার্কিটে কৃত্রিম হাত থেকে মস্তিষ্কেও সিগন্যাল ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সংযোজন হওয়ায় এর সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হলো।’ কৃত্রিম এই হাতটি তৈরি করা হয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে। পরে একে মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত করার পূর্ণ সার্কিট যোগ করে ডারপা। এর ব্যবহারকারী প্রায় শতভাগ সাফল্যের সাথে স্পর্শের অনুভূতি শনাক্ত করতে পারছেন।