ঘড়িকাণ্ডে তারকা খ্যাতি!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১১:২৯


নিজের চেষ্টায় বাড়িতে বসে তৈরি করা একটা ঘড়ি। স্কুলে গিয়ে বন্ধু আর শিক্ষকদের দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দেবে ভেবেছিল ১৪ বছরের আহমেদ মহম্মদ। সেটাই কাল হল তার। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আরভিং শহরের ম্যাকআর্থার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া এই মুসলিম কিশোর স্কুলে ‘বোমা’ নিয়ে এসেছে সন্দেহে পুলিশ ডাকল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

হাতে হাতকড়া পড়ল, চলল ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, কপালে তিনদিনের জন্য স্কুল থেকে সাসপেনশনও জুটল। জেরার পর ভুল বুঝতে পেরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বয়ে গেল বিতর্কের। এই ঘটনাকে ধর্মবৈষম্য বলে প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই।

সরব হয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। গত বুধবার তিনি টুইট করেন, ‘দারুণ হয়েছে ঘড়িটা, আহমেদ। হোয়াইট হাউসে এনে দেখাতে চাও? তোমার মতো বাচ্চাদের বিজ্ঞান ভালোবাসতে শেখানো উচিত আমাদের। এটাই আমেরিকাকে মহান দেশ বানিয়েছে।’

এরপর থেকে রীতিমতো তারকা হয়ে গেছে আহমেদ। আহমেদের বাবা-মা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে উত্সাহী আহমেদ। নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জিনিসপত্র বানানো, লেগে থাকে সবসময়েই।

সে রকমই নিজে নিজে চেষ্টা করে একটা ঘড়ি বানিয়ে ফেলার পর উত্তেজিত হয়ে সেটা স্কুলে দেখাতে নিয়ে যায় সে। কিন্তু প্রথম যে শিক্ষককে ঘড়িটি দেখায় তিনি তাকে বলেন এটা অন্য কাউকে না দেখাতে। কারণ বুঝতে না পেরে পরে ওই স্কুলেরই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষককে ঘড়িটি দেখালে তার ধারণা হয় ঘড়ির মতো দেখতে হলেও আসলে বস্তুটি একটি বোমা। স্কুলে বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশেই আহমেদ এটি স্কুলে নিয়ে এসেছে। আতঙ্কিত ওই শিক্ষক তত্ক্ষণাৎ খবর দেন কর্তৃপক্ষকে, তারা জানায় স্থানীয় থানাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুল চত্বর ভরে যায় পুলিশে। স্কুলে বোমা আনার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশকর্তা গ্রেফতার করেন আহমেদকে।

বিশেষ বাহিনী এসে আহমেদের নিয়ে আসা ‘বোমাটি’ নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করতে থাকে। এরপরই ভুল ভাঙে সবার। দেখা যায়, আহমেদের নিয়ে আসা ঘড়িটি আদৌ বিপজ্জনক কিছু নয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণ ও পুরো বিষয়টি জানার পর আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়।

আহমেদের বাবা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার জন্যই তার ছেলের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু আহমেদ কিছু সময়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হলেও এই ঘটনা তাকে বিখ্যাত বানিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ফেসবুকের কর্ণধার, গুগলের আমন্ত্রণ— এগুলো কি চাট্টিখানি কথা! এমনটি টুইটারে  ইন্টার্ন করার প্রস্তাবও এসেছে। মাত্র ১৪ বছরের কিশোরের জন্য এগুলো তো রীতিমতো স্বপ্ন।

যে হাতে-বানানো ঘড়ির জন্য আগের দিনই হাতকড়া পরতে হয়েছে আহমেদ মহম্মদকে, সেই ঘড়ির সৌজন্যেই রাতারাতি আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটি সে। তার জন্য শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আহমেদ জানিয়েছে, পেন্সিল রাখার বাক্স দিয়ে একটি ডিজিটাল ঘড়ি বানিয়েছিল সে নিজের মেধা খাটিয়ে। সেটিই নিয়ে গিয়েছিল স্কুলে নিজের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটু বাহবা পেতে। কিন্তু বাহবার পরিবর্তে জোটে হাতকড়া।

 হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জশ আর্নেস্ট বলেন, ‘এটা ঠিকই, আহমেদের কয়েকজন শিক্ষক তার কৃতিত্ব বুঝতে পারেননি, কিন্তু এটা আমাদের কাছেও একটা শিক্ষণীয় মুহূর্ত। আমাদেরও বুঝতে হবে, মন থেকে সব ধরনের বিদ্বেষ মুছে ফেলা উচিত। এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ- কীভাবে প্রাচীনপন্থিরা ভালো মানুষদের কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা সানন্দে আহমেদকে অ্যাস্ট্রেনমি নাইটে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চান। আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে তা অনুষ্ঠিত হবে।’