সারাবিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজের জন্য পবিত্র নগরী মক্কা থেকে পার্শ্ববর্তী মিনায় যাত্রা শুরু করেছেন। মক্কার প্রায় নয় কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে মিনা অবস্থিত। হাজিদের অনেকেই গাড়িতে গেলেও অনেকেই পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন।
হাজিরা ইহরাম পরে হজের নিয়ত করে মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তারা যাচ্ছেন আর মুখে বলছেন ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক্, লা শারিকা লাকা।’
হজ করতে আসা নারী ও পুরুষরা পাশাপাশি বসে হজের ইতিহাস ও রীতিনীতি নিয়ে ধর্মীয় বক্তৃতা শুনছেন। মিনায় যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। যেন তাঁবুর শহর। চৌচালা ঘরের মতো তাঁবুতে থাকবেন হাজিরা। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক তাঁবু। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে।
হজের প্রথম দিন তারবিয়াহ দিবস নামে পরিচিত। এ সময় হাজিরা আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। হাজিরা মিনায় নামাজ আদায় ও কোরআন পাঠ করে সময় কাটান।
ইহরামের সময় পুরুষরা দুই টুকরা সাদা কাপড় পরেন। নারীরা পোশাক হয় ঢিলেঢালা এবং তাদের কেবল মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি খোলা তাকে। হাজিরা ১৪শ’ বছর ধরে হজ পালনে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছেন।
এর আগে পদদলিত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানির পর ব্যাপক প্রস্তুতি কারণে গত এক দশকে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ছাড়াই হজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর তীব্র ঝড়ের সময় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত একটি ক্রেন মক্কায় মসজিদুল হারামের ওপর ভেঙ্গে পড়লে কয়েকশ’ লোক হতাহত হয়।
এদিকে চরমপন্থী ইসলামী স্টেট গ্রুপের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রুপটি সৌদি আরবের বিভিন্ন মসজিদ লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মনসুর আল তুর্কি বলেন, হজ অনুষ্ঠানকে বানচাল করতে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো যেন কোন ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সৌদি হজ মন্ত্রণালয় বলছে হজ নিরাপদ করতে এক লাখ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া আরো রয়েছে মারাত্মক মার্স ভাইরাস মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ। গত মাসে রাজধানী রিয়াদে একজনের শরীরে মার্স ভাইরাস আক্রান্তের খবর জানা গেলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন এ পর্যন্ত হজ করতে আসা কারো মধ্যে এ রোগের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে মারাত্মক মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি লোক। ২০১২ সালে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে ৫২৮ জন মারা গেছে। হজ প্রত্যাশীদের এই ভাইরাস মুক্ত রাখতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাজার হাজার স্বাস্থ্য কর্মীকে নিয়োগ করেছে। -বাসস
