কোরবানি উপলক্ষে শেষ সময়ে জমে উঠছে রাজধানীর গবাদি পশুর হাট। হাটে রয়েছে ছোট, বড়, মাঝারি আকারের দেশি-বিদেশি গরু। কিন্তু দিনভর থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি এবং যানজটের কারণে দুর্ভোগে ছিল পশুরহাটে যাওয়া ক্রেতা-বিক্রেতা।
দেশে এ বছর ছোট প্রজাতির নেপালি গরুর চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছে পশু বিক্রেতারা। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ছোট বা মাঝারি আকারের গরু কিনতেই বেশি আগ্রহী। এদিকে, বুধবারও বার দুয়েক বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও কোরবানির পশু। পানিতে ভেজার কারণে অনেক গরু কাবু হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে গরুর পায়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। কাদা-পানিতে একাকার অবস্থা রাজধানীর অন্য পশুর হাটগুলোরও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে, কাদায় দাঁড়িয়ে ও শুয়ে থাকতে থাকতে পশুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
গতবারের তুলনায় কোরবানির পশুর দাম এবার বেশি বলে ক্রেতারা অভিযোগ করলেও মন ভালো নেই বিক্রেতাদের; ঈদের দুই দিন আগে রাজধানীর হাটগুলোতে তাদের বিক্রি বাড়ার আশায় বার বার বাধ সাধছে বৃষ্টি। বুধবার সকাল থেকে হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও পানি-কাদা আর পশুর মলমূত্রে মাখামাখি হতে হচ্ছে তাদের। স্বচ্ছন্দ্যে পছন্দের পশুটি কিনবেন, তার উপায় নেই। আরও একদিন হাতে এবং দাম কমার আশায় অনেকেই শুধু দরদাম করে ফিরে গেছেন। বিক্রি যা হচ্ছে, তাতে বিক্রেতাদের হতাশা কাটছে না।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে জাফর আহমেদ ও তার ভাগ্নে রাহেম উদ্দিন ১২টি গরু নিয়ে গত শনিবার গাবতলী হাটে এসেছেন। হাটের উত্তর পাশে ভালো জায়গায় গরু রাখতে পারলেও এখন পর্যন্ত তাদের গরু বিক্রি হয়েছে তিনটি। এর মধ্যে একটি নয় লাখ, একটি সাড়ে তিন লাখ এবং একটি দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি পেলেও সন্ত্রষ্ট হতে পারছেন না জাফর। তিনি বলেন, আমরা এই দামে পোষাতে পারতেছি না। গরুর খাবারের দাম তো বাড়ছে। তিনটা বিক্রি করেছি লসে। একটা গরুও বিক্রি হবে না, এইটা ভেবেই বেঁচে দিয়েছি।
হাজী আমিনুল ইসলাম (৫৫) মিরপুর-১ নম্বর থেকে কোরবানির পশু কিনতে এসেছেন গাবতলীতে। কিন্তু হাটের পরিস্থিতি দেখে অতিষ্ঠ তিনি। আমিনুল বলেন, হাটে পায়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। চারিদিকে খিচ (কর্দমাক্ত) পানি। বৃষ্টি আসলে যে কোথাও দাঁড়াব সেই অবস্থাও নেই।
শুধু মানুষ নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছে অবলা পশুগুলোও। কোরবানির পশু পানিতে ভিজলেও খাবার পানির সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতি বালতি পানি ১০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে বেপারিদের। সেটারও সংকট হাটে। কুষ্টিয়া দৌলতপুরের হাশেম বেপারি বলেন, গরু পানিতে ভিজিছে তো, খাবার পানি নাই, ক্যাবা লাগে (কেমন) কনতো? পানিতে ভেজার কারণে অনেক গরু কাবু হয়ে গেছে।
ঈদের জন্য অবশিষ্ট্য রয়েছে আর মাত্র একদিন। কিন্তু এখনও আশা পূরণ হয়নি ক্রেতা-বিক্রেতাদের। শেষদিনের অপেক্ষায় আছেন তারা। ফোকাস বাংলা।
