নরসিংদীতে ভয়াবহ রোমমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকার হাতে খুন হতে হয়েছে এক কলেজ ছাত্রকে। ক্ষুব্ধ প্রেমিকা তার প্রেমিককে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি। লাশ ৬ টুকরা করে। সোমবার রাতে এই খুনের পর একদিন প্রেমিকার বাসার খাটের নীচে বস্তাবন্দী করে ৬ টুকরা লাশ রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাত-পা ও মাথাসহ ৫ টুকরা নদীতে ফেলে দেয়। লাশের বুকের অংশ আরেকটি স্থানে ফেলতে গেলে জনতার হাতে ধরা পড়ে প্রেমিকা। তার নাম আনিসা সুলতানা অ্যামি (২০)। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কলেজে অধ্যয়নের পাশাপাশি অ্যামি সানবীম কিন্ডার গার্টেন স্কুল গাবতলী শাখায় শিক্ষকতা করেন। হতভাগ্য প্রেমিকের নাম খোরশেদ আলম (২৩)। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জনতার হাতে অ্যামি আটকের পর পুলিশ তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে শহরের পুরানপাড়ার হাড়িধোয়া নদী সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে লাশের মাথা, দুটি হাত, দুটি পা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেদন মিয়া বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর পুত্র খোরশেদ আলম নরসিংদীর গাবতলী পাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে নরসিংদী সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বেসিক কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতাও করতো। ঐ কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আনিসা সুলতানা অ্যামি। একই কলেজে পড়াশুনার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যামি সানবীম কিন্ডার গার্টেন স্কুল গাবতলী শাখার শিক্ষিকা। গাবতলীর ফখরুল ইসলামের বাড়িতে দুই কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় তিনি ভাড়া থাকেন। পাঁচ বছর আগে সঙ্গীতা এলাকার শাকিল মিয়ার সাথে অ্যামির বিয়ে হয়। তাদের সোহাগ নামে দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। দুই বছর আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সোহাগ তার বাবার কাছে থাকে। এরই মধ্যে খোরশেদ আলমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যামি তার প্রেমিক খোরশেদকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। পড়াশুনা করার সময় বিয়ে করবেন না বলে অ্যামির কাছ থেকে দূরে সরে যান খোরশেদ। এভাবে চলে যায় কয়েক মাস। এতে ক্ষুব্ধ হন অ্যামি। এরই জের ধরে অ্যামি সোমবার বিকালে খোরশেদকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। এসময় অ্যামি খোরশেদকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকা ভাড়া করা ৪/৫ জন সন্ত্রাসীকে ডেকে নিয়ে আসেন। সোমবার রাতের কোন এক সময় অ্যামি পরিকল্পিতভাবে খোরশেদকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করে কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে খাটের নিচে রেখে দেন। পরদিন মঙ্গলবার রাতে লাশের হাত-পা ও মাথা ডোবায় ফেলে দেন। মূল দেহটি একটি বস্তায় ভরে ৪ জন যুবককে সাথে নিয়ে একটি ইজিবাইকে করে রওনা দেন অ্যামি। সোনাতলা-পুটিয়া এলাকায় একটি ব্রীজের কাছে হাড়িধোয়া নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় কয়েকজন লোকের দৃষ্টিগোচর হলে তারা ইজিবাইকের দিকে এগিয়ে যায়। এ অবস্থায় ইজিবাইকে থাকা চার যুবক পালিয়ে যায়। ইজিবাইকে থাকা বস্তা থেকে রক্তপানি ঝরতে দেখে সন্দেহ হয় তাদের। তারা বস্তা খুলে দেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পান। এ অবস্থায় তারা অ্যামিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ অ্যামিকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অ্যামি জানান, খোরশেদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার রাতে খোরশেদ তার বাসায় আসেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বঁটি দিয়ে তার গলায় কোপ দেন। এতে খোরশেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঐ দিন রাতে তার বন্ধুদের সহযোগিতায় লাশ ৬ টুকরা করে বস্তায় ভরে খাটের নিচে রেখে দেন। ৫টি টুকরা একটি ডোবায় ফেলে দেন। বুকের অংশটি সোনাতলা-পুটিয়া এলাকার নদীতে ফেলতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হন।
গতকাল বুধবার ভোর রাতে পুলিশ অ্যামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খোরশেদ আলমের হাত-পা-মাথা উদ্ধার করে এবং রাতেই পুলিশ খোরশেদ আলমের দেহের সাথে প্রাপ্ত মোবাইল থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তার স্বজনদের খবর দেয়। সকালে নিহতের ভাই বেদন মিয়াসহ অন্য আত্মীয়-স্বজন নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
অ্যামির বাড়ি ব্রা?হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার মীরপুর গ্রামে। বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। সৌদি প্রবাসী। মা কল্পনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে অ্যামি নরসিংদীতে থাকেন।
নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, নিহতের সাথে কলেজ ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
