ইন্টারনেট অব থিংসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন জোট

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৩:৪৯

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তি প্রসার পেতে শুরু করেছে। ফলে ইন্টারনেট অব থিংসনির্ভর বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট ডিভাইস এখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট হোম থেকে শুরু করে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। তবে এই প্রযুক্তির অন্যতম একটি দুর্বলতার জায়গা হলো নিরাপত্তা।

 

ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপের পর বর্তমানে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইসকেই হ্যাকাররা লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছে। তাদের আক্রমণের পরবর্তী লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধরনের ওয়্যারেবল গ্যাজেট এবং ইন্টারনেট অব থিংসনির্ভর ডিভাইস। এসব ডিভাইসের ব্যবহার বাড়তে শুরু করায় এগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তাই প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা সরব গত কিছুদিন থেকেই। তাই ইন্টারনেট অব থিংসনির্ভর ডিভাইসকে সুরক্ষিত করতে এবারে একত্রিত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি।

 

‘ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) সিকিউরিটি ফাউন্ডেশন’ শীর্ষক এই উদ্যোগে একত্রিত হয়েছে ৩০টিরও বেশি কোম্পানি। বিটি, ইন্টেল, ভোডাফোনের মতো সব প্রযুক্তি কোম্পানি জড়িত রয়েছে এই জোটে। স্মার্ট ডিভাইসের সুরক্ষা বিষয়ে সকলকে নিশ্চয়তা প্রদান করতেই এই জোট গঠন করা হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে এই জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের চিপ নির্মাতা এনএমআই ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের জন মুর বলেন, ‘ইন্টারনেট অব থিংসের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট গ্যাজেট নিয়ে সতর্ক হওয়ার সময় এখনই। কারণ এখন থেকেই আমরা সতর্ক হয়ে একে সুরক্ষিত না রাখতে পারলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন হলো স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং আমরা এই ধরনের ডিভাইসের বিভিন্ন নিরাপত্তা ত্রুটির কথাও জানতে পেরেছি। যেমন—এর আগে আমরা শিশুদের মনিটরিংয়ের জন্য তৈরি স্মার্ট ডিভাইসের তথ্য চুরি হয়ে যাওয়ার কথা জেনেছি। তাই এসব ডিভাইসের সুরক্ষার জন্য আমাদের সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা কিছু করা দরকার তা করব।’

 

এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট অব থিংসনির্ভর স্মার্ট ডিভাইস নির্মাতাদের তাদের তৈরি ডিভাইসের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই জোটের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এখান থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও সেবা ব্যবহার করার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুর। সাধারণ গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট অব থিংস অনেকটা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির মতোই। আকাশে নিরাপদে উড্ডয়ন করা যাবে, এমন বিশ্বাস শুরুর দিকে অনেকেই করেননি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি সেই আস্থা তৈরি করে নিয়েছে। আমরাও এমন আস্থা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদী।’