আলমডাঙ্গায় দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:২৪

চুয়াডাঙ্গার  আলমডাঙ্গায় দুই কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। ঈদুল আযহার দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত দুই কিশোর বড়বোয়ালিয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে হাফিজুর(২০) ও মৃত হযরত আলীর ছেলে রনি (১৮)। এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার বড়বোয়ালিয়া গ্রামের অদূরে ঈদগাহ মাঠে হাফিজুরের লাশ দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। নিহত হাফিজুরের গলায় কাঁচা পাট পেঁচানো ছিল। কিছুক্ষণ পর রনির মৃতদেহ খালের পানিতে ভাসতে দেখে লোকজন। রনির গলায়ও কাঁচা পাট পেঁচানো ছিল।
 
ধারণা করা হচ্ছে, একই হত্যাকারী হাফিজুর ও রনিকে হত্যা করেছে। একই গ্রামে দুই কিশোর হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ায় গ্রামটিতে শোকের মাতম শুরু হয়ে যায়।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার বড়বোয়ালিয়া ও পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হাফিজুর ও রনি ওই ছিনতাই চক্রের সদস্য হতে পারে।
 
রনির ভাই জমিরউদ্দিন জানান, পাঁচদিন আগে ওই মাঠের মধ্যে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আফাজউদ্দিন চতুর ওই ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। আফাজউদ্দিন চতুর মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম চতুরের মেজভাই।
 
ওই ঘটনায় আফাজ নিহত রনিকে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করেন। এরপর আফাজ তার অনুসারীদের কয়েকজন রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে মোটরসাইকেলে রনির গ্রামে এসে রনির খোঁজ করে। রনিকে পেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও ষ্পষ্ট জানিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রনির পরিবার আফাজকেই দায়ী করছেন।
 
জমিরউদ্দিন আরো জানান, ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে রনি পাশের গ্রাম লক্ষিপুরে তার খালুর বাড়ি বেড়াতে যায়। ঈদের নামাজ খালু সাইদুল্লাহর বাড়িতেই পড়ে সে। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রনির মোবাইলে একটি কল এলে রনি খালুর বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। তবে হাফিজুরকে কেন রনির সঙ্গে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে তার কারণ কেউ ঠিকমত জানাতে পারেনি। পুলিশ বলছে, হাফিজুরও রনির সঙ্গী হিসেবে ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত।
 
লাশের খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার এসআই আনিছুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। ময়না তদন্ত শেষে দুইজনের মরদেহ গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
 

হত্যকান্ডের ঘটনায় হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি সেকেন্দার আলী  জানান, দুই কিশোরের মধ্যে রনির বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।