প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ গুজব ও ভিত্তিহীন : স্বাস্থ্য অধিদফতর

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২৩:৩৬
চলতি বছর মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজসমূহে এমবিসিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে গুজব ও ভিত্তিহীন হিসেবে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতার সাথে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মাধ্যমে এমবিসিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরবর্তীতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব নিয়ে কিছু স্বার্থন্বেষী চক্র প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে সকল অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে তা মোটেও সঠিক নয়। গত ১৫, ১৭ ও ২২ সেপ্টেম্বর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে জড়িত সন্দেহে র‌্যাব যাদের গ্রেফতার করেছে তাদের কারোর কাছ থেকে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়নি।
 
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কোন মহল থেকে প্রশ্ন ফাঁসের কোন অভিযোগ করা হয়নি। এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও ভর্তিচ্ছুকদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন, তখনো কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে কোন অভিযোগ করেননি। সারাদেশে ২৩টি ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শকদের কাছেও কেউ অভিযোগ তোলেননি। পরীক্ষা থেকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উত্থাপন ও ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে দাখিলকৃত রিট আবেদনটি হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগ খারিজ করেছে। তাই বিষয়টি এখন মীমাংসিত।
 
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ভর্তি যোগ্য শিক্ষার্থী তিন হাজার ৬৯৪ জন। এরমধ্যে কোটায় (পার্বত্য জেলাসমূহ, উপজাতি ও অউপজাতি, উপজাতি-অন্যান্য জেলা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য) ১১১ জন, মেধা ও জেলা কোটা ৩ হাজার ৫৮৩ জন। ৩৫৮৩ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা সর্বোচ্চ জিপিএ নম্বর ১০ পেয়েছেন তাদের মধ্যে তিন হাজার ৭৩ জন এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ এর মধ্যে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪৬৭ জন, ৯ দশমিক ৪ থেকে ৯ দশমিক ৫ এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ২১ জন, ৯ দশমিক ৩ থেকে ৯ দশমিক ৪ এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১০ জন, ৯ দশমিক ২ থেকে ৯ দশমিক ৩ এর মধ্যে উত্তীণ হন ৭ জন এবং ৯ দশমিক ০৮ থেকে ৯ দশমিক ২ এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫ জন। কোটা ছাড়া কোন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ মোট নম্বর ৯ দশমিক ০৮ এর নীচে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।  জিপিএ মোট নম্বর ৯ দশমিক ৫ বা তার বেশি পেয়ে শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা সুবিধা নিয়ে ভর্তির অভিযোগ সঠিক নয়।
 
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ২৩টি কেন্দ্রের প্রায় প্রতিটি কেন্দ্র থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। রংপুর, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উত্থাপিত হলেও উল্লেখিত চারটি কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জন্য নির্বাচিত হতে পারেনি। একই অবস্থা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে নির্বাচিত পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদন্ড রক্ষা করে প্রথাগত ঐতিহ্যের সাথে প্রতি বছর সম্পন্ন করা হয়।