বৈশ্বিক সক্ষমতা সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৫, ০২:১২

বৈশ্বিক সক্ষমতা সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪০টি দেশের মধ্যে ২০১৪ সালের ১০৯তম অবস্থান থেকে ২০১৫ সালে ১০৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে দুই ধাপ এগুলেও এসময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে দক্ষতার অবনতি হয়েছে, বিনিয়োগ পরিবেশ খারাপ হয়েছে। আগের মতোই  রয়ে গেছে দুর্বল অবকাঠামো, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারে অস্থিরতা, ব্যবসায়িক অর্থায়নের জটিলতা আর নীতি সহায়তার বাধাগুলো। এছাড়া ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারো ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে এ সূচকটি তৈরি করেছে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’।

 
গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্যা গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৫-১৬’ প্রতিবেদনটি তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সূচকে ভারত এগিয়েছে ১৬ ধাপ, ভিয়েতনাম এগিয়েছে ১২ ধাপ। জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৭১ থেকে ৫৫তম, শ্রীলংকা ৭৩ থেকে ৬৮তম, নেপাল ১০২ থেকে ১০০তম, ভুটান ১০৩ থেকে ১০৫তম, পাকিস্তান ১২৯ থেকে ১২৬তম ও মিয়ানমার ১৩৪ থেকে ১৩১তম স্থানে রয়েছে। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, নেদারল্যান্ড, জাপান, হংকং ও ফিনল্যান্ড।
 
প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ যখন কয়েক ধাপ এগিয়েছে সেখানে বাংলাদেশের এ গতি কচ্ছপের মতো। ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুর্বল অবকাঠামো, দুর্নীতি ও অদক্ষ প্রশাসন ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ বেড়েছে। উচ্চ কর হার বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে দক্ষ জনবলের অভাব, আর্থিক সেবা নেয়ার ব্যয় বেড়েছে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও ঋণের উচ্চ সুদ হারসহ অন্যান্য কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কঠিন হয়েছে। একই সঙ্গে নীতি স্থিতিশীলতা বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। সামান্য কিছু উন্নতি হলেও গতবছরের মতোই এবছরও রপ্তানিতে মূল সমস্যাগুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব, সীমান্তে দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহনের বিলম্বের কারণে ব্যয় বেড়েছে। এসব সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়নি। অপরাধ ও চুরি এ বছর রপ্তানিতে আরও সমস্যা তৈরি করেছে।
 
জরিপ চলাকালে ব্যবসায়ীরা আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জ্বালানি সংকটকে। এছাড়া সুশাসন ও অবকাঠামো ঝুঁকিও বাংলাদেশের জন্য থেকে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পুঁজি দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যবসায়িক নিরাপত্তাহীনতা, দুর্নীতি ও অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ সুবিধাকে। প্রসঙ্গত এই জরিপে দেশের ৫৬ জন ব্যবসায়ী তাদের মতামত দিয়েছেন।