‘নারী দিবস কি আমরা জানিনা’

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫০

দেশে নারীরা এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে রয়েছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী নারীরা। শহর এবং গ্রামের তুলনায় সীমান্তবর্তী, চরাঞ্চলের নারী বেশি পিছিয়ে।তাদের অনেকেই জানেন না অধিকার সম্পর্কে। সংসারধর্ম পালন, সংসারের আয় উন্নতিতে ভূমিকা রাখাকেই তারা মুখ্য দায়িত্ব ভেবে পার করে দিচ্ছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। 

দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের একটি উপজেলা ফুলবাড়ী। এ উপজেলার আয়তন ১৬৩.৬৩ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমারেখা ৩৬ কিলোমিটার। উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কুচবিহার জেলা। ধরলা, বারোমাসিয়া, নীলকমলসহ তিনটি নদী বিধৌত এলাকাটি ছোটবড় শতাধিক চরে বিভক্ত। 

এ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস। তার মধ্যে চরে বাস করেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। কৃষি নির্ভর এই উপজেলার মানুষ গুলো বছরের অধিকাংশ সময় থাকেন বেকার। 


এই এলাকার নারীদের অধিকাংশই গরীব। পরিবারই তাদের একমাত্র অবলম্বন এবং ঠিকানা। সংসারের আয় উন্নতির জন্য এই নারীরা পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিন মজুরের কাজও করছেন। তবে মজুরি পুরুষের চেয়ে কম। শুধু এই বৈষম্যই নয়, সংসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেও হচ্ছেন নিগৃহীত। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানিসহ সমাজে নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়ে পিছিয়ে পড়ছেন এই জনপদের নারীরা।

চরাঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অনেক নারী বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, ভিজিডি কার্ড এবং প্রতিবন্ধী ভাতা থেকেও বঞ্চিত।

সীমান্ত ঘেঁষা গোরকমণ্ডপ আবাসনের লাবনী বেগম, নাছিমা বেগম, শাহিদা বেগম, রশিদা বেগম, আকলিমা বেগম ও জাহেদা বেগমসহ অনেকেই জানান, আমরা এক প্রকার বন্দী জীবন কাটাই। এমনকি সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। একই কাজ করে পুরুষের অর্ধেক টাকা পাই।

তারা আরও জানান, ‘নারী দিবস কি আমরা জানি না। আমরা কি, আমাদের অধিকার গুলো কি এসব নিয়ে ভাবার সময় নাই। শুধু জানি ভালো করে সংসার চালাতে হবে।’ 

আরো পড়ুন: মধ্য মাঠের ফেলাইনি ছাড়লেন আন্তর্জাতিক মাঠ

এনজিও কর্মী ঝরনা বেগম জানান, সীমান্তবর্তী নারীদের যে সকল সুযোগ-সুবিধা ও নারীর অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে। সমাজে নারীদের সুবিধা গুলো নিশ্চিত করতে পুরুষদের অবশ্যই সহযোগিতা প্রয়োজন। 

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, ইতিমধ্যে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় ট্রেনিং সেন্টার তৈরি উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে সীমান্তবর্তী মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের ভাগ্যেন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিকভাবে মানুষ যত সচ্ছলতা পাবে ততই মানুষ তার অধিকার সম্পর্কে জানতে পারবে।

ইত্তেফাক/অনি