ওরিগনের একটি কমিউনিটি কলেজে নয়জনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ‘একটি ‘রাজনৈতিক আদর্শের পেছনে আশ্রয় নিয়েছিলেন’। ক্রিস হার্পার মার্কার নামে ওই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার আম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজে একটি ক্লাসরুমের ভেতরে গুলি চালায় এবং পুলিশ পৌঁছানোর পর সে আত্মহত্যা করে। খবর বিবিসির।
পুলিশের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা অ্যাসোশিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানায়—একটি লেখায় মার্কার মেয়েবন্ধু না থাকার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। সে আরো লিখেছিল—বাকিরা সবাই ‘পাগল’ এবং সে একজন সদ্বিবেচক। ২৬ বছর বয়সী মার্কার তার মা লরেল মার্গারেট হার্পারের সঙ্গে কলেজ থেকে অল্প কয়েক মাইল দূরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।
পুলিশ মার্গারেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তিনি তাদের জানান—মার্কার মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। মার্গারেট একজন নার্স, যিনি অ্যাসপারগাস সিনড্রোমে (এক ধরনের প্রতিবন্ধিতা) আক্রান্ত একটি ছেলে থাকার বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে ওয়েবসাইটে পোস্ট দিয়েছিলেন।
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে ব্যর্থতার পর মার্কারকে ২০০৮ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। অনলাইনে দেয়া পোস্ট অনুসারে—তিনি মেয়েবন্ধুর সন্ধান করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, বেঁচে যাওয়া এবং ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে তিনি আগামী শুক্রবার ওরিগনের রোজেবার্গ সফর করবেন।
ওই হত্যাকাণ্ড থেকে উদ্ধার পাওয়া কয়েকজন এর আগে বলেছিলেন—মার্কার পুলিশের জন্য একটি বার্তা রেখে গেছেন। বেঁচে যাওয়া একজনের মা সামার স্মিথ বলেন, মার্কার তার সন্তান ম্যাথুকে অনেকের ভেতর থেকে বেছে নিয়েছিলেন এবং তাকে হত্যা না করার সিদ্ধান্ত নেন।
ডসএনএনকে সোমবার তিনি বলেন, ‘গুলিবর্ষণকারী পুলিশকে দেয়ার জন্য তাকে কিছু দেয় এবং যদি সে এটা করে তাহলে সে বেঁচে যাবে বলে জানায়।’
মিসেস স্মিথ বলেন, ‘ম্যাথু তাকে একটি খাম হস্তান্তর করে, যা দেখে মনে হয়—এর ভেতরে থাম্ব-সাইজের একটি কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ।’
তিনি বলেন, এরপর মার্কার সহপাঠীদের গুলি এবং হত্যা করা দেখতে তাকে বাধ্য করে।
মিসেস স্মিথ বলেন, ‘ম্যাথু বলেছে যে, সে জমে গিয়েছিল, সে একটুও নড়তে পারছিল না, তাকিয়ে থাকতে সে ভয় পাচ্ছিল।’
