রোহিঙ্গাদের তথ্য চেয়ে ৩ মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:৩৯
 
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও দুর্যোগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া একই বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, কক্সবাজার, বান্দরবন ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতেও।
 
রবিবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহফুজা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের কাছে রোহিঙ্গাদের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, স্বামী-স্ত্রীর নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা প্রভৃতি তথ্য চাওয়া হয়। ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি রোধ করতে মূলত নির্বাচন কমিশন এ উদ্যোগ নিয়েছে।
 
গত বছরের ভোটার হালনাগাদের সময় রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে, তাতে জনপ্রতিনিধিরাও সম্পৃক্ত আছেন—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন আসার পর থেকেই রোহিঙ্গা ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।
 
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছকও পাঠিয়েছে ইসি। এতে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ছক অনুযায়ী তালিকা দেয়া সম্ভব না হলে মন্ত্রণালয়ে রোহিঙ্গাদের তথ্য যেভাবে সংগৃহীত আছে, সেভাবে সফটকপিসহ সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
 
একই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে। চিঠিতে যেসব বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে তাদের তালিকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে সেখানকার সরকারি রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
 
ইসির কর্মকর্তারা বলেন, রোহিঙ্গা-বিশেষ এলাকা ও অন্য উপজেলাগুলোতে ভোটার তালিকায় বিভিন্ন উপায়ে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে ইসি বদ্ধপরিকর। এ কারণে, বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
 
এ ছাড়া, চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ বাড়ার কারণে কমিশনে উদ্বেগ বেড়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য কমিশন থেকে আলাদা তথ্য ভাণ্ডার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরতদের আঙুলের ছাপ গ্রহণ করার চিন্তা-ভাবনা করছে ইসি।
 
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালে রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে কক্সবাজার, বান্দবন পার্বত্য জেলা ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১৪টি উপজেলাকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে।