বাংলাদেশে বিদেশিদের উপর ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভেন্ট (আইএসএল)-এর হামলা এবং বিরোধী দল বিএনপিসহ ২০ দলীয় মহাজোটের রাজনৈতিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাফেরায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঢাকায় যুক্তরাজ্য দূতাবাস শুক্রবার gov.uk ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক নোটিসে তাদের নাগরিকদের বলেছে, 'সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের হুমকি রয়েছে এখানে। পশ্চিমাদের উপর নতুন করে হামলা হতে পারে।'
IMG0
বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তায় 'বিশেষ ব্যবস্থা' নেওয়ার কথা জানিয়ে সরকার কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করার তিন দিনের মাথায় যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে নতুন এই সতর্কবার্তা এল। সেখানে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বাংলাদেশে জনাকীর্ন এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়।
ব্রিটেনের এই সতর্কতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, 'নিরাপত্তায় আমাদের সব দিক সঠিক আছে- কোনো ঘটতি নাই।'
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় চেজারে তাভেল্লা নামের এক ইতালীয় এনজিওকর্মী দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় রংপুরের এক গ্রামে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। দুটি ঘটনার পরই আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে সরকার বলে আসছে, দুই খুনের সঙ্গে আইএস'র সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, আইএস বা তেমন কোনো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই।
প্রধানমন্ত্রীর সন্দেহ, যারা বাংলাদেশকে 'অস্থিতিশীল করতে চায়' তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে 'বিএনপি-জামায়াতের' হাত থাকতে পারে। দুই বিদেশি খুন হওয়ার পর ঢাকার কূটনৈতিক পাড়াসহ সারা দেশেই বিদেশিদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ দেশে বিদেশিদের বাসস্থান ও কর্মস্থল চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও গত ৬ অক্টোবর জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
এরপরও যুক্তরাজ্য কেন নতুন করে সতর্কতা জারি করল সে বিষয়টি তাদের বার্তায় স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিটিশ হাই কমিশনের মুখপাত্র বলেন, তারা বাংলাদেশ সফরে নাগরিকদের নিষেধ করছেন না।
'বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের উচ্চ ঝুঁকির কারণে এবং এখানে বিদেশিরা হামলার শিকার হওয়ায় আমাদের ভ্রমণ বিষয়ক পরামর্শ হালনাগাদ করা হয়েছে।' চলাফেরায় সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি বহু মানুষের জনসমাগমের স্থান এবং যেসব হোটেল বা সম্মেলন কেন্দ্রে পশ্চিমা নাগরিকদের জড়ো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেসব স্থানে যাতায়াত সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই বার্তায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, 'সারাদেশে র্যাব সদস্যরা বিদেশিদের নিরাপত্তায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যথেষ্ট সতর্ক।' যুক্তরাজ্য কেন এ ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করছে- তা আরো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ইউকে অ্যাম্বেসি ও বিডি নিউজ।
